অপপ্রচারে হুমকির মুখে তারাগঞ্জের সফল ইউপি চেয়ারম্যান। সুরক্ষার আকুতি এলাকাবাসীর
প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর):
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভিজিডি-ভিজিএফ বিতরণ, শতভাগ কর আদায় এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে স্বীয় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তিনি আজ সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীক। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই বিপুল জনপ্রিয়তা ও সাফল্যই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে অপপ্রচার, রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং নিরাপত্তার ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন এই হিন্দু সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কুমারেশ রায় এলাকায় চুরি, ছিনতাই, জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন। সরকারি সুবিধা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বৈরী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল দ্বারা তিনি ও তার অনুসারীরা বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানেও তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হওয়ায় তাকে ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর মতে, সব ধরনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কুমারেশ রায়ের মতো সৎ, শিক্ষিত ও নিষ্ঠাবান জনপ্রতিনিধির কাজ স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি যদি নিজের সীমানায় নিরাপদ না থাকেন, তবে তা পুরো এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলে। তাই অনতিবিলম্বে চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন হাড়িয়ারকুঠির সর্বস্তরের মানুষ। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোনাববর হোসেন বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়ের বিষয়টি আমার জানা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বা স্থানীয় প্রতিনিধি কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংকটের সম্মুখীন হলে এবং লিখিত অভিযোগ জানালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

