তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দোকান ঘর বরাদ্দে চরম অনিয়ম।

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধ:
রংপুরের তারাগঞ্জ ও/এ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের দোকান ঘর বরাদ্দে ‘চান্দিনা বন্দোবস্ত’ নীতিমালা ও ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে চান্দিনা বন্দোবস্ত বিধান লঙ্ঘন করে একই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের নামে একাধিক দোকান বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছ, প্রচলিত চান্দিনা বন্দোবস্ত আইন ও সরকারি খাস জমি/প্রাতিষ্ঠানিক জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বাজার বা বাণিজ্যিক ভিটায় একক নামে বা একই ব্যক্তির নিকট আত্মীয়-স্বজনের নামে একাধিক দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়ার আইনি সুযোগ নাই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুর্ন- বাসন এবং ব্যবসায়ীদের সমবণ্টন নিশ্চিত করতে ওই মার্কেটি নির্মাণ করা হলেও আইনকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একই ব্যাক্তির নামে ২থেকে ৩টি দোকান ঘরও বরাদ্দ দেয়ায় বিদ্যালয় কতৃপক্ষ চরম অনিয়ম করছে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি চান্দিনা বন্দোবস্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে তাদেরর আপন আত্নীয় স্বজনদের নামে দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এই ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির নজিরবিহীন ঘটনার কারণে স্থানীয় প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকান পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি ও সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাণী বেগমের নামে সরকারি বিধি ও চান্দিনা নিয়ম লঙ্ঘন করে দুটি দোকান ঘর বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও এভাবে সরাসরি ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়া এবং সরকারি নীতিমালা ভাঙার কারণে সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চান্দিনা বন্দোবস্তের নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকান কোনোভাবেই তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি, সাবলেট বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ প্রধান শিক্ষক মুসা সরকারের আত্মীয় ও সহকারী শিক্ষক বাণী বেগমসহ যাদেরকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই দোকানগুলো বরাদ্দ দিয়েছে। তারা নিজেরা ব্যবসা করছেন না। তারা মূল প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বহুগুণ বেশি টাকা জামানত (অ্যাডভান্স) এবং চড়া মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করে দোকানগুলো অন্য প্রভাবশালী মানুষদের কাছে অবৈধভাবে হস্তান্তর বা সাবলেট দিয়েছেন। সরকারি সম্পত্তির ওপর ভিত্তি করে একশ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী এভাবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে পকেট ভারী করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনিয়ম-দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক মুসা সরকারের আত্মীয় ও সহকারী শিক্ষক বাণী বেগমসহ সকল বেআইনি বরাদ্দ বাতিল করে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে দোকান ঘরগুলো পুর্ন ররাদ্দ দেওয়ার জন্য তারা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুসা সরকার বলেন, যদিও অনিয়ম হয়ে থাকে তা আমার আগের প্রধান শিক্ষক করছে। আমি এগুলোর সাথে জরিত না। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর শুধু মাসিক ভারা উত্তলন করছি। যা হাওয়ার আামার আগের আমলে হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *