​অভিভাবক হারিয়ে শোকস্তব্ধ সাংবাদিক আশরাফুল: ‘দীক্ষাগুরু’ আবুল কালাম আজাদের চিরবিদায়

​রংপুর জেলা (প্রতিনিধি):
রংপুর জেলার তারাগঞ্জের সাংবাদিকতা জগতের এক বটবৃক্ষ আজ উপড়ে পড়লো। দীর্ঘ লড়াই আর অগণিত সংবাদকর্মীর পথপ্রদর্শক, তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ আর নেই। শুক্রবার জুমার নামাজের ঠিক আগে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার এই প্রস্থানে সবচেয়ে বেশি শোকাতুর ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার হাতে গড়া শিষ্য, দৈনিক সংবাদ-এর তারাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম। ​পেশাদারিত্ব বন্ধনে আশরাফুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদের সম্পর্ক কেবল সহকর্মী বা গুরুর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল কয়েক দশকের এক অবিচ্ছেদ্য পারিবারিক ও পেশাদারী বন্ধন। সাংবাদিকতার কঠিন ও বন্ধুর পথে আশরাফুল ইসলামের হাতেখড়ি হয়েছিল এই প্রবীণ সাংবাদিকের কাছেই। ​পেশাগত জীবনের এক পর্যায়ে আবুল কালাম আজাদ যখন একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন, তখন তার সেই স্বপ্নের সারথি হয়ে পত্রিকাটির ‘বার্তা সম্পাদক’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রিয় শিষ্য আশরাফুল ইসলাম। এই দীর্ঘ পথচলায় তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিলেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ​”তিনি শুধু আমার গুরু ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়ার মতো এক পরম অভিভাবক। সাংবাদিকতার কাজ করতে গিয়ে গভীর রাত হলে কখনো উনার বাড়ি, কখনো উনার মেয়ের বাড়ি সৈয়দপুরে, আবার কখনো আমরা একসাথে রংপুরে রাত কাটাতাম। আমার জীবন আর সাংবাদিকতার প্রতিটি ধাপে উনার ঋণ অপরিশোধ্য। আজ মনে হচ্ছে আমি আমার নিজের পিতাকে হারালাম। তেনার সাথে আমার দীর্ঘ এই পথচলা আজ এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। ​তারাগঞ্জ উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়, আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুতে তারাগঞ্জ একজন কলমযোদ্ধাকে হারালাম। তার নীতি ও আদর্শকে ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের সদস্যরা। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *