তারাগঞ্জে চলাচলের রাস্তা বন্ধের ঘটনায় প্রভাবশালী বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে সাব-কবলা দলিল মূলে কেনা জমির দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় রিপোর্টার প্রবীর কুমার কাঞ্চনের প্রত্যক্ষ দাপট ও ছত্রচ্ছায়ায় এই অত্যাচার ও বেআইনি বাধা সৃষ্টি করছে ওই প্রভাবশালী চক্রটি। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকার শ্রী সুদীপ চন্দ্র শর্মা এবং তারাগঞ্জের ঘনিরামপুর (দৌলতপুর) এলাকার শ্রী প্রশান্ত কুমার রায় গত ১৬/০১/২০১৩ইং তারিখে ১৫৪ ও ১৫৫নং দলিল মূলে খনিরামপুর এলাকার মৃত শশধর রায়ের পুত্র শ্রী মনমোহন রায়ের কাছ থেকে সাব-কবলা মূলে জমি ক্রয় করেন। উক্ত দলিলের শর্তানুযায়ী, পশু হাসপাতাল রোড হতে পূর্ব-পশ্চিম লম্বালম্বি চলাচলের জন্য এবং পরবর্তীতে কৈলাশের জমির উত্তর-পূর্ব কোণ পর্যন্ত মোট ৬ ফিট চওড়া একটি সাধারণ চলাচলের রাস্তা রাখার ব্যাপারে দাতা মনমোহন রায় রাজি হন। সেই শর্ত মেনেই ক্রেতারা সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে উক্ত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত ও জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, সম্প্রতি রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গত ১০/০৪/২০২৬ইং তারিখ সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগীরা মাটি ফেলে রাস্তাটি সংস্কার করতে যান। এ সময় জমির মূল দাতা মনমোহন রায় আকস্মিকভাবে রাস্তা সংস্কারে বাধা প্রদান করেন। বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “আমি জমি বিক্রি করেছি, কিন্তু রাস্তা বিক্রি করিনি।” এই অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রাস্তাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাঁয়তারা শুরু করেন। ভুক্তভোগীরা জানান, জমি ক্রয়ের সময় দাতার খোলাসা মতামত ও দলিলের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও এখন সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এই রাস্তা বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এই পুরো ঘটনার পেছনে মূল ইন্ধন ও দাপট দেখাচ্ছেন রিপোর্টার প্রবীর কুমার কাঞ্চন। তাঁর প্রভাবকে পুঁজি করেই মনমোহন রায় ও তাঁর পরিবার এই অন্যায় অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই সাধারণ রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে তারা মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “আমরা এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, “প্রবীর নামে একজন রিপোর্টার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ওই ঘটনাটিকে লিড (নিয়ন্ত্রণ) করছেন বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টিও আমাদের মাথায় (নজরদারিতে) আছে, তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

