তাসনিয়া ফারিণের প্রিয় ভ্রমণস্থান কোনটি, জানেন? কেন প্রিয়, বললেন সেই গল্পও

প্রিয় বেড়ানোর জায়গা?

আমার পছন্দের জায়গা অনেক। ছোট থেকেই ঘুরতে পছন্দ করি। দেশের–বিদেশের অনেক জায়গা ঘুরেছি। দেশে যেমন কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি পছন্দ, তেমনি যুক্তরাজ্যের নানা জায়গায় ঘুরতেও আমার ভালো লাগে। তবে আমার সবচেয়ে পছন্দের দেশ থাইল্যান্ড। এই দেশের চিয়াংমাই আর ফুকেট আমার পছন্দের শীর্ষে। শুটিং থেকে বিরতি পেলেই মনে হয় থাইল্যান্ড চলে যাই।

থাইল্যান্ডে দোল দোল দুলুনি...

থাইল্যান্ডে দোল দোল দুলুনি…ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কেন প্রিয়?

চিয়াংমাই আর ফুকেটে ঘোরাঘুরি আমার কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো। এখানে প্রকৃতি দারুণ, স্থানীয়দের সংস্কৃতি ভালো লাগে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক মন্দির, আধুনিক ক্যাফে আর ছোট ছোট বাজার—সবকিছুই অনেক ভালো লাগে। সবচেয়ে বড় কথা, এসব জায়গায় আমি নিজেকে খুঁজে পাই। নিজের মতো করে থাকতে পারি। মনে হয়, এটা আমার পাশের বাড়ি। আরও অন্যতম কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে এখানে সহজেই যাওয়া যায়। যেতেও সময় লাগে খুব কম। খরচও অনেক কম। আবার সহজে শপিং করতে পারি। অল্প খরচের মধ্যে আমার পছন্দের জায়গা ঘুরে আসতে পারি।

কবে প্রথম?

ছোটবেলা থেকেই আমি পড়াশোনায় খুব ভালো। রেজাল্ট ভালো করার কারণে অনেক আবদার করতে পারতাম। এসব আবদারের মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললে মা তেমন একটা মানা করত না। পরিবারের অন্যরাও আগ্রহ নিয়ে ঘুরতে নিয়ে যেত। থাইল্যান্ডে প্রথম যাওয়ার সালটা হিসাব করে বের করতে হবে। তবে চট করে এটা বলতে পারি, আমি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। সেই থেকেই দেশটির প্রেমে পড়েছি।

কানজানা হাতি অভয়ারণ্যে ম্যাসন নামে হাতিটির সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো এমনই সুন্দর ছিল

কানজানা হাতি অভয়ারণ্যে ম্যাসন নামে হাতিটির সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো এমনই সুন্দর ছিলছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কত স্মৃতি

থাইল্যান্ডে আমার অনেক স্মৃতি। একবার সিদ্ধান্ত নিলাম চিয়াংমাই থেকে অনেক ভেতরে যাব, যেখানে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। মানুষজন একেবারেই কম। আমাদের বহনকারী গাড়ির ড্রাইভার ইংরেজি বোঝেন না। উঁচু–নিচু রাস্তায় অনেক ভয় আর অস্থিরতার মধ্যে পথ চলতে হয়েছিল। পরে হেঁটে পাহাড়ের অনেক ওপরে উঠেছিলাম। উঠতে উঠতে একবার চালককে হারিয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে পরে কোনো সমস্যা হয়নি। পাহাড়ের ওপরেই ছিল আমাদের রিসোর্ট। আর দ্বিতীয় ঘটনা বেশ আগের। ফুকেটে গিয়ে হাতিকে গোসল করিয়েছিলাম। এটাও বেশ ভয়ের ব্যাপার ছিল!

প্রথম যাওয়ার সালটা হিসাব করে বের করতে হবে। তবে চট করে এটা বলতে পারি, আমি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। সেই থেকেই দেশটির প্রেমে পড়েছি।

কোল্ড প্লে–এর কনসার্টে তাসনিয়া ফারিণ

কোল্ড প্লে–এর কনসার্টে তাসনিয়া ফারিণছবি: ফেসবুক থেকে

তখন–এখন

থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত আমি সাত কি আটবার গিয়েছি। দেশটাতে ঘুরতে গিয়ে প্রতিবারই দারুণ স্বস্তি পাই। হয়তো পছন্দের জায়গা বলে। পরিবর্তন অনেক কিছুই চোখে পড়ে। পর্যটনকে যেভাবে দিন দিন সহজ করে তুলছে তারা, সেটা ভালো লাগে। আলাদা করে এই খাতকে খুবই গুরুত্ব দেয় তারা। পর্যটকদের জন্য তারা সব সময় নানা বৈচিত্র্য নিয়ে, নতুনত্ব নিয়ে আসে। যেমন গত সফরে আমার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি থাইল্যান্ডে গিয়েছিলাম কোল্ড প্লে–এর কনসার্ট দেখতে। এটা ছিল আমার দেখা কোল্ড প্লে-এর প্রথম কনসার্ট। আমার কাছে এখনো কনসার্ট দেখার দিনটি স্মরণীয় হয়ে আছে।

সাক্ষাৎকার: মনজুরুল আলম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *