‎সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী রাম মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ‎

‎সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী রাম মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ ‎


‎সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি।। নীলফামারীর সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাম সীতা বিগ্রহ জিউ মন্দির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়ক ও দিনাজপুর রোড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসরণ করে নতুন করে নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

‎মন্দিরটির পুনর্নির্মাণকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মন্দির নির্মাণকাজে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য সৈয়দপুরের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎আয়োজকরা জানান, অতিশিগগিরই পুরোনো মন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নতুন মন্দির নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং সৈয়দপুরের সনাতন সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

‎মন্দিরটির ইতিহাসের সঙ্গে সুমিত কুমার আগরওয়ালার পিতামহ রামেশ্বর লাল আগরওয়াল-এর নামও জড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগ ও দানে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে পুরোনো স্থাপনাটি নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‎মন্দির পুনর্নির্মাণ কমিটির সভাপতি সনজিৎ সাহা বলেন, “রাম মন্দিরটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। পুরোনো স্থাপনার পরিবর্তে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন একটি মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সৈয়দপুরের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীর সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ আমরা প্রত্যাশা করছি।”

‎সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার দাস বলেন, “মন্দির পুনর্নির্মাণ একটি বড় উদ্যোগ। ধর্মীয় রীতি মেনে ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার সনাতন ধর্মাবলম্বীকে এই কাজে পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

‎কোষাধ্যক্ষ উত্তম কুন্ডু বলেন, মন্দির নির্মাণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু কল্যাণ সমিতি, সৈয়দপুরের আহ্বানে মন্দির পুনর্নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের সৌন্দর্য ধরে রেখে নতুন মন্দিরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *