বিশ্ব জুড়ে ১০ লাখ নারী ও শিশুর জীবন ঝুঁকিতে
বিশ্বব্যাপী বিদেশি সাহায্য বা অনুদান কমে যাওয়ায় গত ১৮ মাসে লাইফ সেভিং জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে অন্তত ১০ লাখ নারী ও শিশু। গত এক বছরে নারী ও শিশুদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর কাছে সেবার দাবি বা চাহিদা বেড়েছে। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ সংস্থাই জানিয়েছে, অর্থায়নের অভাবে মাঠপর্যায়ে তারা পূরণ করতে পারছে না এই চাহিদা। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ইউএন উইমেন।
আগে সবচেয়ে বেশি তহবিল আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফের হোয়াইট হাউজে বসার পর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিদেশি সাহায্য কমিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএআইডি বিলুপ্ত করার পর ওয়াশিংটনের বিদেশি অনুদান প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক সহায়তার অন্যান্য বড় দাতা দেশ, যেমন জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যও তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বাধ্যবাধকতার কারণে অনুদানের পরিমাণ কমিয়েছে।
ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম প্রধান সোফিয়া কালটর্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যেসব নারী সংস্থা আজ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা মূলত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের ফ্রন্টলাইনে কাজ করছে। নারী সংস্থাগুলো থেকে কেটে নেওয়া প্রতিটি ডলার মানে যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার শিকার, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশু এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ডলার।’
কঙ্গো, হাইতি, আফগানিস্তানসহ ৫২টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ৮৫৫টি নারী সংস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন। এতে দেখা গেছে, চরম তহবিল সংকটের কারণে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ সংস্থা সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে।
চাহিদা বাড়া সত্ত্বেও গত বছরের জানুয়ারি থেকে ৬০ শতাংশ সংস্থা আগের চেয়ে কমসংখ্যক নারী ও শিশুর কাছে পৌঁছাতে পারছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক সংস্থাই জানিয়েছে, তারা সহায়তাপ্রার্থী মানুষদের ওয়েটিং লিস্টে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক নারী ও শিশু ফেরত যাচ্ছে। প্রায় সব সংস্থাই জানিয়েছে, তাদের থেকে সেবা নেওয়া নারীরা দিন দিন আরও দরিদ্র হয়ে পড়ছেন। মেয়েরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে।
এমনকি গত এক বছরে যুদ্ধ ও সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা দ্বিগুণ বেড়েছে। তবুও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ করেছে ৬২ শতাংশ সংস্থা। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের সেবামূলক কার্যক্রমও কমিয়েছে।

