সৈয়দপুরে রেলওয়ের কৃষি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ: শর্ত ভঙ্গে প্রভাবশালীদের দাপট
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কৃষি জমি লিজ নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মাণ ও প্লট আকারে জমি বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দপুর কাজির হাট হঠাৎ বস্তি রোড এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের (পাকশী বিভাগ) মালিকানাধীন কৃষি জমি মাছ চাষ বা কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে লিজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লিজের শর্ত তোয়াক্কা না করে সেখানে বর্তমানে পুরোদমে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
অভিযুক্তদের তৎপরতা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কাজের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মোঃ সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে হুমায়ুন কবির ও মানিক মিস্ত্রি সহ একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তারা কেবল ভবন নির্মাণই নয়, বরং সরকারি লিজ নেওয়া জমি সাধারণ মানুষের কাছে ভুয়া চুক্তিতে বিক্রয় করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ের লিজের শর্ত অনুযায়ী:
নির্ধারিত জমি ব্যতীত অন্য কোথাও স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা যাবে না।
জমির শ্রেণি পরিবর্তন (কৃষি থেকে বসতভিটা বা বাণিজ্যিক) করলে লিজ বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিজ গ্রহীতা কোনোভাবেই জমি অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা বিক্রয় করতে পারবেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষমতার দাপটে এই তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি:
সরকারি সম্পত্তি এভাবে দখল ও শ্রেণি পরিবর্তনের ফলে পরিবেশগত ও আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস না পেলেও, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

