সৈয়দপুরে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মব’ সৃষ্টি: নেপথ্যে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ও উসকানি! শিক্ষকের সম্পৃক্ততার প্রমান মিলেছে।
এপিএন ডেস্ক : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কৃত্রিম ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্যে শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক (বিজ্ঞান) হয়েও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগে যোগদান করা সহ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সরকারি হওয়া বর্তমানে গনিত বিষয়ের শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর, সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক মোঃ মশিহুর রহমান এবং একজন বদলি হয়ে আসা শিক্ষকের অবৈধ প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যে প্রধান শিক্ষক বাধা প্রদান করায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও মোঃ মশিহুর রহমান বোর্ডের ইংরেজি খাতা কাটেন এবং স্কুলের ভেতরেই ইংরেজি প্রাইভেট পড়ান।
প্রায় তিন বছর আগে বদলি হয়ে আসা সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও রুম ভাড়া নিয়ে জীববিজ্ঞান ও ইংরেজির রমরমা প্রাইভেট /কোচিং ব্যবসা চালাচ্ছেন।
খণ্ডকালীন শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবীরের নিয়োগ নিয়ে প্রধান শিক্ষক প্রশ্ন তোলায় এবং রুটিনে তার পছন্দমতো ক্লাস না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া ছাত্রীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দিয়ে এই ‘মব’ তৈরি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আন্দোলনের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে জোর করে বের করে আনা হয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী মূলত শিক্ষকদের হয়ে উসকানিদাতার ভূমিকা পালন করে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং নিরাপত্তার অভাবে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারছেন না।
প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার বলেন, “এটি আমার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সরকারি আইন মেনে আমি শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়াতে নিষেধ করেছি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি বলেই তারা শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। আমি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ জানিয়েছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আশা করছি।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষকদের এই অভ্যন্তরীণ দলাদলি এবং কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ফিরে আসা অসম্ভব।
তাছাড়া অবৈধ ভাবে নিয়োগ নেয়া শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবীর কে যেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো হয় সে জন্য সচেতন মহল জোর দাবি জানাচ্ছে। তাকে যেন অতি দ্রুত ছুটিতে পাঠানো হয়।

