আওয়ামী দুঃশাসনে সাংবাদিক নিগ্রহ: তারাগঞ্জে ওসির প্রতিহিংসার শিকার আশরাফুল

​নিজস্ব প্রতিবেদক, বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে পুলিশকে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল রংপুরের তারাগঞ্জে। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট তারাগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমানের রোষানলে পড়ে চরম নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন নির্ভীক সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম। ​জানা গেছে, দৈনিক সংবাদের তারাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম ওই সময় পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তৎকালীন ওসির বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার না করে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠা ওসি মোস্তাফিজার রহমান এই সত্য সহ্য করতে না পেরে সাংবাদিক আশরাফুলকে ‘শায়েস্তা’ করার ছক আঁকেন। ​২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর সকালে সাংবাদিক আশরাফুলকে তার নিজ বাসা থেকে ফিল্মি কায়দায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় নিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কোনো অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও ওসির একক নির্দেশে তাকে একটি পুরনো ও ভিত্তিহীন মারামারি মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ওসির সখ্যতা থাকায় তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। সাংবাদিক আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে মূলত মুক্ত সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।​​সাংবাদিককে বিনা কারণে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। প্রাথমিক তদন্তে ওসির প্রতিহিংসার প্রমাণ মেলায় তাকে তারাগঞ্জ থানা থেকে তাৎক্ষণিক সরিয়ে (স্ট্যান্ড রিলিজ) দিনাজপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। ​সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সেই সময়ে আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করা পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা ছিল অপরাধ। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছিলাম, যার বিনিময়ে আমাকে হয়রানি ও কারাবরণ করতে হয়েছে।” এঘটনায় তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ​সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, আশরাফুলের ওপর এই নির্যাতন ছিল আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র, যেখানে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তারাগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, এউপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে আশরাফুল ইসলাম তৎকালীন আওয়ামীলীগ স্বৈরাচার সরকারের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও এমপিদের নিয়েও সংবাদ পত্রে একাধিক বার সমলোচনা করছেন। মূলত এরেই জের হিসিবে  পুলিশকে ব্যবহার করে সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *