মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: অসহায় বিধবা রাহেনার ঘর সংস্কারে ঢেউটিন দিলেন সমাজসেবক এম এ এইচ জাকারিয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৮ বছর ধরে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা বিধবা রাহেনা বেগমের (৪৩) পাশে দাঁড়িয়েছেন আজিজার মিঞা সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম এ এইচ জাকারিয়া। দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাতে রাহেনার ঘর সংস্কারের জন্য আজ রোববার (৮ মার্চ) তার হাতে ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের বাসিন্দা রাহেনা বেগম। স্বামী ও সন্তানহীন এই নারী বর্তমানে তার বৃদ্ধ মায়ের সাথে একটি ভাঙাচোরা কাঁচা ঘরে বসবাস করছেন। বাবা জীবিত থাকাকালীন অভাব না থাকলেও, তার মৃত্যুর পর রাহেনার জীবন হয়ে ওঠে চরম সংগ্রামময়। জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি আর বাঁশের নড়বড়ে দেওয়ালের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত। বিধবা ভাতা ও ভিজিডি কার্ডের সামান্য সহায়তা পেলেও একটি নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব তাকে সবসময় তাড়া করে বেড়াত।
রাহেনা বেগমের এই দুর্দশার খবর জানতে পেরে প্রথমে তার বাড়িতে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করে দেন এম এ এইচ জাকারিয়া। তবে ঘরের শোচনীয় অবস্থা বিবেচনা করে এবার তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নেন।
আজ দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা চত্বরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে রাহেনা বেগমের হাতে এক বান্ডিল ঢেউটিন হস্তান্তর করা হয়।
সহায়তা প্রদানকালে সমাজসেবক এম এ এইচ জাকারিয়া বলেন,
”মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি রাহেনা বেগমের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজে এমন অনেক অসহায় মানুষ আছেন যারা সামান্য সহায়তার অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে তাদের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,
”সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এমন সহায়তা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। এম এ এইচ জাকারিয়ার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়
টিন হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত রাহেনা বেগম বলেন,
”বৃষ্টির সময় ঘরে থাকা যেত না, অনেক কষ্টে দিন কাটত। জাকারিয়া সাহেব আমাকে টিউবওয়েল দিয়েছেন, এখন ঘর মেরামতের জন্য টিনও দিলেন। আমি তার কাছে চিরঋণী। আল্লাহ তার মঙ্গল করুন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, বিত্তবানদের এমন সহায়তার ধারা অব্যাহত থাকলে রাহেনার মতো আরও অনেক অসহায় মানুষ নিরাপদ জীবনের দেখা পাবেন।

