হিলি সীমান্তে এপারবাংলা ওপারবাংলার মিলন মেলা

এপিএন টিভি ঃ , বিরামপুর, দিনাজপুর।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা আর এই পুজায় ভারতে থাকা স্বজনদের এক নজর দেখতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে জড়ো হয়েছে কয়েক শত মানুষ। এপারবাংলা ওপারবাংলা, মাঝখানে কাঁটা তারের বেড়া। বেড়া থাকায় সরাসরি কথা না বলতে পারলেও দূর থেকে স্বজনদের দেখে শান্তি খুঁজে পান তারা।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) পুজার নবমির দিন বিকেল হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। জড়ো হওয়া দর্শনার্থীরা সীমানা ঘেঁষে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে স্বজনদের সঙ্গে ইশারায় কথা বলছেন। বড়দের সঙ্গে ছোটরাও এসেছে এখানে।

হিলি স্থলবন্দরের দুদেশের সীমান্ত শহরের নাম হিলি। শহরের মাঝ দিয়ে রয়েছে রেললাইন। রেললাইনের এপারে বাংলা হিলি আর ওপারে ভারত হিলি। এই শহর দেখতে ছুটে আসে অনেকেই।

দুর্গাপূজার নবমি দিন সকাল থেকেই সীমান্তের চেকপোস্ট গেট এলাকায় ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। আজ দশমির দিনেও ভির জমবে এখানে । শুধু পুজা বা ঈদের দিন নয় শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে তারা এখানে আসেন। অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন ভারতের জিরো পয়েন্টে।

কথা হয় গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা গোপাল কর্মকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বাবারা সাত ভাই। বাবা বাংলাদেশে থাকেন। বাকি চাচারা ভারতে। গত কয়েক মাস তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। আজকে সরাসরি কথা বলতে না পারলেও দূর থেকে এক নজর দেখে খুব খুশি লাগছে।

পাঁচবিবি থেকে আসা স্বপন শাহা বলেন, পরিবারের সবাই ভারতে থাকেন। ছোট কাকাকে দেখতে এসেছি। কাছে গিয়ে কথা বলতে পারলাম না। দূর থেকে দেখেও ভালো লাগলো।

কয়েকজন দশনার্থী বলেন, ছেলে মেয়েদের হিলি সীমান্ত এলাকা দেখাতে নিয়ে এসেছি। এতোদিন শুনেই এসেছি আজ কাছ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। খুব ভালো লাগলো এখানে এসে।

বিজিবির সদস্য বলেন, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে রয়েছি। দুই দেশের লোকজন দুর্গাপূজায় দুপাশে ভিড় করছেন। তারা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে কাছে গিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *