সৈয়দপুরে সেনা সার্জেন্টকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা \ দু’সহোদর আটক।

সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ সৈয়দপুরে জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সার্জেন্ট ও তার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহত দু’ভাই রংপুর মেডিকেল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধিন। অভিযুক্ত দু’সহোদরকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়। গতকাল শনিবার বিষয়টি মিডিয়া কর্মীদের সামনে তুলে ধরেন ওই সার্জেন্টের ছোটভাই মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের শিক্ষক আতিয়ার রহমান ওরফে খোশো ও তার ভায়রা আব্দুল হাদির সাথে জমি নিয়ে শফিকুল ইসলাম গংয়ের বিরোধ চলছিল। এনিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়। কিন্তু আতিয়ার গং তা প্রত্যাখান করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আতিয়ার রহমান ওরফে খোশো পরিবার নিয়ে রংপুর শহরে বসবাস করলেও তারই নির্দেশে আব্দুল হাদি ও তার ছেলেরা শফিকুল ইসলাম গংয়ের সাথে যে কোন ছুঁতোয় বিবাদ বাঁধানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ মিলেছে।


পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় শফিকুল ইসলামের মেঝ ভাই সিরাজুলের ইসলামের ঘরের পেছনে পায়খানা ফেলে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে আব্দুল হাদির স্ত্রী আহেতন। সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী গোলাপী বেগম এর প্রতিবাদ করলে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যায়। এক পর্যায়ে আহেতন ও তার মেয়েরা গোলাপীকে একা পেয়ে মারধর ও বিবস্ত্র করে। সিরাজুল ইসলাম স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ওই সময় আব্দুল হাদির ছেলে ওমর ফারুক ওরফে আবু তাহের (২৭), আবু বক্কর ওরফে আবু (৩০) ও আবু তালেব (২৫) সিরাজুল ইসলামকে মারতে থাকে। ভাইয়ের আত্মচিৎকারে তাকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে যান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ আজিজুল ইসলাম। তিনি খালি হাতে ছিলেন এবং উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই সময় ওমর ফারুক ওরফে আবু তাহের ও তার ভাই আবু বক্কর ওরফে আবু দ্রুত ঘর থেকে ধারালো হাসুয়া (বড় আকারের ধারালো কাস্তে বিশেষ) এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এসময় আবু তাহের তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আজিজুল ইসলামের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারে কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কোপটি আজিজুল ইসলামের বা হাতের বাহুতে পড়ে। অপরদিকে, আবু বক্কর ওরফে আবু তার হাতের ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিরাজুল ইসলামের পায়ে কোপ মারেন। রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা কর্তৃপক্ষ আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। আজিজুল ইসলামের হাতের জখম গভীর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘোনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলেফ হোসেন জানান, আব্দুল হাদির ছেলেরা দুর্দান্ত প্রকৃতির। এলাকার কারো সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও ধারালো অস্ত্র বের করে। ধৃত ওমর ফারুক ওরফে আবু তাহের ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় সদস্য। রংপুর ক্যান্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিয়ার রহমান খোশো’র প্রত্যক্ষ মদদে তারা চলে বলে তিনি দাবী করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার ১নং বিবাদী আতিয়ার রহমান ওরফে খোশো’র সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানা পুলিশের গোলাহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ২৯ মার্চ রাতে ওমর ফারুক ওরফে আবু তাহের ও আবু বক্কর ওরফে আবুকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাদেরকে নীলফামারী জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে ১৪৩,৩২৩,৩২৪,৩০৭,৩৫৪,৫০৬ ও ১১৪ ধারা পেনাল কোড রুজু করা হয়। সৈয়দপুর থানায় মামলা নং-৩৩, তারিখ ২৯ মার্চ।
মামলা দায়েরের ৫ দিন হলেও অন্যান্য আসামী আটক না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। জমিজমা নিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা ওই এলাকায় প্রথম ঘটনা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আটক ও সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবী জানান এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।