সৈয়দপুরে নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্যে ছড়াছড়ি।

নুর মোহম্মদ ওয়ালিউর রহমান রতন, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্যে ভরে গেছে। দেশে নামি দামি কোম্পানির মোড়কে মোড়ানো অথবা মোড়ক নেই এমন শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে শহরের প্রায় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এসব শিশু খাদ্য সামনে থেকে দেখলে বুঝার উপায় নেই কোনটা আসল আবার কোনটা নকল। খাদ্যদ্রব্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা সেদিকে নজর না দেওয়ার কারণেই শহর জুড়ে স্থাপিত হয়েছে একাধিক শিশু খাদ্য তৈরির কারখানা। অপরদিকে পার্শবর্তী তারাগঞ্জ উপজেলা ও ঠাকুরগাঁও থেকেও সৈয়দপুরে আসছে নানা ধরণের নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য। শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা খাদ্য অধিদপ্তরের ঢিলামির কারণেই সৈয়দপুর এখন নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্যের শহরে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য অনেকে।


অভিযোগে প্রকাশ, সৈয়দপুরে ফাহিম নামের এক ব্যক্তি শহরের একাধিক পাড়া-মহল্লায় গড়ে তুলেছেন শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা এবং সেখানে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম, আইসললি, তেতুল ললি, লিচি সহ আমের জুস। নোংরা পরিবেশে একেবারেই নিম্নমানের শিশু খাদ্য তৈরির পর ঢাকা থেকে ক্রয়কৃত চটকদার মোড়কে মুড়িয়ে বাজারজাত করছেন তিনি। কতটা ভেজালমুক্ত ও বিএসটিআই এর অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব জানার দায়িত্ব কোন সাংবাদিকের নয়, এবিষয়ে যাদের জানা দরকার তাদের ম্যানেজ করেই তিনি শিশু খাদ্য তৈরি করছেন বলে জানান।


খোঁজনিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা মহল্লাতেই গড়ে উঠেছে একাধিক চকলেট, চানাচুর, লিচি, আমের জুস, পেপসি, হাই স্প্রিট ও লাচ্ছা তৈরির কারখানা। ওই এলাকার মুন্সি নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য তৈরি করে বাজারজাত করে চলেছেন। এছাড়া কামাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি পাল্লা দিয়েই তৈরি করছেন শিশু খাদ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ শহরের কারিহাটি বাজারের প্রায় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে ওই সব অবৈধ কারখানার তৈরি করা নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য। স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের লোকজনের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় ওই সব ব্যবসায়ীরা এক প্রকার দাপটের সাথেই তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আঙ্গল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ চকলেট, আইসক্রিম, আইসললি, তেতুল ললি ও আমের জুস ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মহল্লায় হরেক রকমের চিপস কারখানা রয়েছে। যাদের অধিকাংশেরই নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বা খাদ্য অধিদপ্তর এখনই ওই সব কারখানা ও কারিহাটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালে প্রায় শতকোটি টাকারও বেশি মুল্যের নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য উদ্ধার করতে পারবেন। ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরবতার কারণে পাশ্ববর্তী তারাগঞ্জ উপজেলা ও ঠাকুরগাঁও থেকেও প্রায় প্রতিদিনই সৈয়দপুরে আসছে লাখ লাখ টাকার মূল্যের নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য।
এ বিষয়ে ডাঃ ওয়াসিম বারী জয় জানান, ভেজাল খাদ্যের কারণে শিশুদের পেটের পিড়া পিছু ছাড়ছে না। স্বাস্থ্যহানীর শিকার হচ্ছে অধিকাংশ শিশু। অচিরেই ভেজাল শিশু খাদ্য উৎপাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বলে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ জানা।