সৈয়দপুরের আজও টিকে আছে গজল।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে আজও টিকে আছে গজলের প্রথা। তবে পূর্বের তুলনায় ব্যপকতা কম। গজলের দল গ্রামে দেখা গেলেও শহরে চোখেই পড়েনা। এখন আর বড়দের দল নেই। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে দলবেধে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি এ পাড়া থেকে ও পাড়া যাচ্ছে। গাইছে ইসলামী গজল সহ নানা ধরনের ইসলামী কবিতা।
মূলত এ গজল গাওয়া ১০ রমজানের পর থেকে শুরু হয়েছে। চলবে ঈদের দিন পর্যন্ত। বিনিময়ে বাড়ির মানুষ ও শ্রোতারা তাদের অর্থসহায়তা কওে থাকেন।


সরজমিনে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বোতলাগাড়ি ও বাঙালিপুর ইউনিয়নে প্রতিবছর রমজান এলে এ গজলের প্রচলন দেখা যায়। আগে বড় দল বের হতো। কালের বিবর্তনে সেটি হারিয়ে গেছে। তবে ৫ থেকে ১০ ও ১২ বছরের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের গজলের দল আজও গ্রামে রয়েছে।
কথা হয় শহরের হাতিখানা বানিয়াপাড়া গ্রামের ছামিউল এর সাথে, তিনি বলেন, এখন বড় হয়েছি গজল বলতে লজ্জা লাগে, নিজেকে ভিখারীর মত মনে হয়।


মাটির রাড়ি মাটির ঘর, মাটি হবে বিছানা, ‘আহারে রহিমা বিবি হাতে কেন ভিক্ষার ঝুলি’ ‘মরণের কথা কেন স্মরণ করো না’সহ নানা গজল গেয়ে চলেছে ওই শিশু-কিশোরদের দল। প্রতিটি দলে চার-পাঁচজন থেকে ১০/১২ জন থাকে। এর মধ্যে একজন দলনেতা থাকে, যাকে স্থানীয় ভাষায় হাদি বলা হয়। অর্থাৎ সে প্রথম গজল ধরবে আর বাকিরা তার সঙ্গে কোরাস গেয়ে যাবে। ভালো গজলের দল হলে অনেক গৃহবধূ কেঁদে চোখের পানিও ফেলেন।
উপজেলার কামারপুকুরে কথা একটি গজল দলের সদস্যদের সঙ্গে। কিশোরী ওই গজল দলের দলনেতা মরিয়ম নেছা বলে, আমাদের গজলের দলে ১২ জন রয়েছে। এর মধ্যে কেউ প্রাইমারিতে পড়ি, কেউ বা লেখাপড়া করে না। সবাই সমবয়সী। ঈদের দিন পর্যন্ত গজল গেয়ে যে আয় হবে, তা দিয়ে ভুরকা ভাত (বনভোজন) খাব। এটাই আমাদের আনন্দ।
সৈয়দপুরের বাঙালিপুর ইউনিয়নের কৃষক আলতাফ হোসেন ও একই ইউনিয়নের লক্ষণপুর চড়কপাড়ার ষাটোর্ধ্ব রহিমা বেওয়া জানান, মোবাইল ফোনের যুগে বর্তমান ছেলে-মেয়েরা এসব গজল শুনতে চায় না। তবে বয়োবৃদ্ধরা ইসলামী গজল ও পুঁথিপাঠ শুনে থাকেন। এখনো গ্রামে এসব গজলের কদর কমেনি। এ গজলের দল প্রতিদিন আসে না, ১১ মাস পর রমমজানে আসে। তাই আমরা ভালোমতো তাদের খুশি করি।