শ্রেণীকক্ষে বারান্দায় খরের স্তুপ,জুয়া ও নেশার আড্ডা নীলফামারীতে কৃষি কলেজে শিক্ষার্থী নেই শিক্ষার্থী রয়েছে শুধু কাগজে কলমে


মো:রেজাউল করিম রঞ্জু,নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা মিজানুর রহমান চৌধুরী কৃষি কলেজ শিক্ষার্থী নেই, শুধু কাগজে কলমে রয়েছে শিক্ষার্থী। উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের মিজানুর রহমান চৌধুরী কৃষি কলেজে এই দৃশ্য।
কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরেও অধ্যক্ষ পদে দুই জন শিক্ষক দাবী করায় তাদের মামলা মোকদ্দমার কারনে মুখ থুবড়ে পড়েছে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম। ফলে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা।
সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, এক বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে রয়েছে দুই তলার একটি ভবন। একটি পাকা ভবন। ভবন সমুহের দরজা-জানালা নাই, খুলে নিয়ে গেছে মানুষজন। আর শ্রেণী কক্ষের ভেতর ময়লা-আবর্জনা খরের স্তুপ,বারান্দায় জুয়া ও নেশা খোরদের আড্ডায় পরিনত। বর্তমানে কলেজে লেখাপড়া করার মত কোনো পরিবেশ নেই।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরীর নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে কলেজটি পাঠদানের অনুমতি পায়। ২০০৭ সালে কলেজটি স্বীকৃতি লাভ করে। দুই শিক্ষকের দ্বন্দে শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে ব্যহত হচ্ছে। এদিকে অন্যান্য শিক্ষকেরাও বেকায়দায় পড়েছে। প্রথমদিকে কলেজটিতে প্রচুর শিক্ষার্থী ছিল। প্রায় ৮/৯ বছর থেকে কলেজটি বন্ধ থাকায় এখন আর কলেজে কোন শিক্ষার্থী নেই ও পড়াশুনা হয় না।
কলেজের অধ্যক্ষ দাবী করা দুই শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, কলেজটিতে শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। বর্তমান অধ্যক্ষ পদে নিয়ে দুজনের মামলা চলমান থাকায় ও কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরেও বেতন ভাতা না হওয়ায়, শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেকে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ বেছে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। মামলা করা সহ বিভিন্ন সমস্যার কারনে কলেজের পাঠদান বন্ধ আছে। বর্তমানে কোন শিক্ষার্থী নেই। কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে কাগজে কলমে শিক্ষার্থী কিছু রয়েছে।
বালাগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আহম্মেদ হোসেন ভেন্ডার বলেন, কলেজের ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘরের দরজা-জানালাগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে। কলেজে বহুদিন যাবত কোনো পাঠদান হয় না, শিক্ষার্থীও নেই।
জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, মিজানুর রহমান চৌধুরী কৃষি কলেজটির বিষয় আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *