শ্রীলঙ্কায় গণবিপ্লব: সরকারি দলের নেতাদের বাড়ি-ঘরে আগুন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।

ডেক্স রিপোর্টঃ কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা বিক্ষোভে গণবিপ্লব ঘটেছে শ্রীলঙ্কায়। গণবিস্ফোরণের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রাজা মাহিন্দা রাজাপাক্সে। এর আগে সারা দেশ থেকে তাঁর সমর্থকদের এনে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। জারি করা হয়েছিল কারফিউ। এতে বরং হিতে বিপরীত হয়েছে। দেশব্যাপী মানুষ রাজপথে নেমে আসলে তাঁর সমর্থকদের সাথে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্যসহ ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকার দলীয় নেতা ও মন্ত্রীসহ ১০ জনের বাড়ি ঘরে আগুণ দেওয়ার খবর ‍‍‍‍দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম। সংঘর্ষে ৭৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।


ক্ষমতাসীনদের ব্যাপক দুর্নীতি, বিদেশে টাকা পাচার, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের চরম সঙ্কটের প্রতিবাদে দেশটির জনগণ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা বিক্ষোভ করে আসছিলেন। এর আগে বৈদেশিক ঋণে দেশটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার খবর বের হয়। বৈদেশিক ঋন নির্ভরতা ও ব্যাপক দুর্নীতির ফলে দেশটির অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছিল।
এতে সরকারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবীতে বিক্ষোভ করছিল দেশটির জনগণ। দেশটির জনগণ রাস্তায় নেমে টানা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী রাজধানী কলম্বোর কাছে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। সহিংসতা বন্ধে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হলেও বিক্ষোভ থামেনি।


সোমবার বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাউন্ট লাভিনিয়া এলাকায় সাবেক মন্ত্রী জনস্টন ফেরনান্দোর আবাসিক ভবন ও বর্তমান এমপি সনাথ নিশানথার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে জ্বলন্ত ঘর থেকে আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্সের পদত্যাগের খবর প্রচারিত হওয়ার পর শ্রীলঙ্কাজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সাথে যোগ দেয় সাধারণ জনতা।
১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরেই খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট বিরাজ করছে দেশটিতে। বিদ্যুৎ সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিলে মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে রাস্তায় নেমে আসে।
উল্লেখ্য, মাস খানেকের বেশি সময় ধরে শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। গত ৯ এপ্রিল থেকে রাজধানী কলম্বোয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে আছেন বিক্ষোভকারীরা।
সোমবার পদত্যাগের আগে রাজাপাক্সে কয়েক হাজার সমর্থককে বাসে করে রাজধানীতে নিয়ে আসে। তাঁরা প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশে অবস্থান নিয়ে থাকা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের তাঁবু ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালান তারা। এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সরকারি বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এক পর্যায়ে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীরা দমেনি। তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এতেই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন।
সংঘর্ষ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ও পানিকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে কলম্বোয় কারফিউ জারি করা হয়। পরে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়।