বীরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১১নং মরিচা ইউনিয়নের মাহাতাবপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাহমুদ ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার নানা অনিয়ম নিয়ে স্কুল ম্যানেজিৎ কমিটির সহ-সভাপতি, দাতা সদস্য ও সদস্য, অভিভাবকবৃন্দ সহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  প্রধান শিক্ষক গোলাম মাহমুদ ইয়াহিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ নিজের খেয়ালখুশি মত স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিভিন্ন দোকানে ও নেশাগ্রস্থ বখাটে ছেলেদের সাথে আড্ডা দেন। এ অবস্থায় আমরা স্থানীয় জনগন ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ওই প্রধান শিক্ষককে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম সঠিক দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানালে, তিনি আমাদের কথা কোন  তোয়াক্কা না করে তার নিত্যদিনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত শ্রম, মেধা, স্বপ্ন, দক্ষতা, অর্থ, ব্যয় করেছেন। অথচ প্রধান শিক্ষক বাংলাদেশ সরকারের মিশন ও ভিশনকে অবজ্ঞা করে প্রতিমাসে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নিচ্ছেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অজিবুল ইসলামকে অভিযোগ করলে তাৎক্ষনিক ভাবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার গীতা রানী সরকারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। উত্তরে শিক্ষা অফিসার অফিসার মহাদয়ের সাথে কথা বলে, আমি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিব। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তার স্বেচ্ছারিতা উচ্ছৃংখল আচরণ প্রমাণ করে দেয় তিনি মাদক (গাঁজা) সেবক ও অযোগ্য অদক্ষ ফাঁকিবাজ। যার কারণে দিনদিন ছাত্র-ছাত্রী একেবারে কমে যাচ্ছে। অভিভাবকগণ হতাশ হয়ে কেউ কেউ স্থানীয় কিন্ডার গার্টেনে ভর্তি করিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন। যা অত্যন্ত দুঃখ জনক। তার বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ অভিযোগ যে, তিনি ১৫ই অক্টোবর ২০১৭ ইং শুক্রবার পবিত্র জুমা বারে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযানে গোলাপগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শহীদ মিনার সংলগ্ন আম গাছের নিচে গাঁজা সেবন কালে ৩০০ গ্রাম গাঁজা সহ দুজন আটক হন। কোন অদৃশ শক্তির মাধ্যমে আসামি থেকে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে শর্তসাপেক্ষে ১নং সাক্ষি হয়েছেন। যা মামলা নং ১১, ১৫-১০-২০১৭ খ্রি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জোর দাবী জানান।সরেজমিনে গিলে ওই স্কুলের  অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুল ঠিকঠাক মত আসেন না। তার অফিসে ও শ্রেণী কক্ষে সে সিগারেট খায়। এতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা তার এমন আচরণে কি শিক্ষা অর্জন করবে। ইউপি সদস্য অজিবুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২২ইং গোলাপগঞ্জ বাজার আসার পথে স্কুল চলাকালীন সময়ে রাস্তার আড়ালে সিগারেটের ভিতরে গাঁজা ঢুকিয়ে প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া সেবন করছেন। তখন স্কুল সঠিকভাবে পাঠদান ও পরিচালনা করা জন্য তাকে বললে, তিনি রাগান্বিত ও চরাও হয়ে আমাকে বলেন এই সরকার করোনার অজুহাতে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। কিছু বলার থাকলে সরকারকে গিয়ে বলেন। আমি আমার ইচ্ছেমতো চলবো। এছাড়াও সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেন। মাদক সেবন বিষয়টি তাকে ডোপ টেস্ট করালে সু-স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তদন্ত করে এই প্রধান শিক্ষকের বদলি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি কামনা করছি। এব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক গোলাম মাহমুদ ইয়াহিয়াকে একাধিকবার কল করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ব্যস্ত থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *