বিশ্বখ্যাত তাজমহলের আদলে নির্মিত হচ্ছে দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ‘আফতাবগঞ্জ জামে মসজিদ।

এনামুল মবিন(সবুজ)

স্টাফ রিপোর্টার.

দেশের উত্তারাঞ্চলের বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র নবাবগঞ্জের স্বপ্নপুরী। আর এই স্বপ্নপুরীর পাশেই আফতাবগঞ্জ বাজারে ঐতিহাসিক তাজমহলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘আফতাবগঞ্জ জামে মসজিদ’।  

এক বিঘা জমির উপর দাড়িয়ে থাকা মসজিদটিকে দেখতে মনে হবে যেন তাজমহল। মসজিদের নির্মাণকাজ ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে এখনও চলমান রয়েছে। আফতাবগঞ্জ জামে মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে একাধিকবার তাজমহলসহ ভারতের বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শন করানো হয়েছে।

এদিকে, পুরোপুরি নির্মাণকাজ শেষ না হলেও মসজিদটি দেখতে ভিড় করছে দুর-দুরান্তের মানুষ। নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ বাজারের পুরোনো মসজিদটিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নির্মাণাধীন এ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শুরু করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে দীর্ঘ ৭ বছর যাবত মসজিদটি গড়ে তুলছেন স্বপ্নপুরীর স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন। নিজস্ব পরিকল্পনায় তাজমহলের অনুসরণে মসজিদটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।  

চার তলাবিশিষ্ট মসজিদটির নিচতলায় থাকবে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। যেখানে থাকবে ধর্মীয় বিভিন্ন গবেষণামূলক বই।

পাশেই থাকবে সেমিনার কক্ষ। যেখানে ধর্মীয় বিতর্ক কিংবা আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা যাবে। থাকবে তাবলিগ, জামাত কিংবা জ্ঞান অন্বেষণে আসা লোকদের জন্য থাকার সুব্যবস্থাও।  

দ্বিতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত তিনটি ফ্লোরে ২০ হাজার স্কয়ার ফিটের এ মসজিদে প্রায় ৫ হাজার লোকের নামাজের ব্যবস্থা থাকছে। তৃতীয় তলায় মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।

১৬টি পিলারের ওপর তৈরি এ মসজিদে রয়েছে ৩২টি ছোট মিনার। চার কোনায় রয়েছে চারটি সুউচ্চ গম্বুজ। গম্বুজগুলোর প্রতিটির উচ্চতা ৯৭ ফিট।  

বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত ও ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রানাইট, টাইলস, মার্বেল পাথরসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসজিদের দেয়াল, ছাদসহ গোটা মসজিদ জুড়ে বিভিন্ন নকশা, আরবি ক্যালিগ্রাফি ও চাঁদ-তারাসহ বিভিন্ন নকসা স্থান পেয়েছে। সেখানে প্রতিদিন কাজ করছেন রাজমিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রিসহ প্রায় শতাধিক শ্রমিক।  

স্বপ্নপুরীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্থানীয় সাংসদ শিবলী সাদিকের দাদা মৃত ডা. আফতাব হোসেনের নামে ওই আফতাবগঞ্জ বাজারটির নামকরণ করা হয়। তার হাত ধরে এখানে মসজিদ, স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বের মসজিদটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ও মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় পারিবারিকভাবে নতুন করে এ মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।  

এ ব্যাপারে স্বপ্নপুরীর স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, মসজিদে মুসল্লী বেড়ে যাওয়াতে নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়। এজন্যই এলাকার মুসল্লীর নামাজ আদায়ের জন্য ভিন্নধর্মী একটি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে যে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে এতে আগামী ৫০ বছরেও মুসল্লীদের নামাজ আদায় করতে কোনো সমস্যা হবে না।  

তিনি আরও জানান, মসজিদ নির্মাণে কোন বাজেট নির্ধারণ করা নেই। মসজিদটি নির্মাণে যত টাকা লাগবে তা ব্যয় করা হবে। সৌন্দর্য আর আধুনিকতায় গড়ে তুলতে যা খরচ লাগবে তা ব্যয় করা হবে এখানে। করোনার কারণে এর নির্মাণ কাজে সময় লাগছে। তবে এটি নির্মাণে আরও ২ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *