ফুলবাড়ীর সন্তান তন্ময় গুপ্ত মিমোর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

ফুলবাড়ীর সন্তান তন্ময় গুপ্ত মিমোর
হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃতি ও মেধাবী সন্তান রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তন্ময় গুপ্ত মিমো’র হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


গতকাল সোমবার ফুলবাড়ীবাসীর ব্যানারে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সম্মুখ সড়কে ১১টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে তন্ময় গুপ্ত মিমো’র হত্যাকারিদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নিহত তন্ময় গুপ্ত মিমো’র মা শেফালী গুপ্তা, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাক সংবাদদাতা ও দৈনিক দেশ মা সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, সিনিয়র সহ-সভাপতি ভোরের কাগজ প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ, সহ-সভাপতি দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক মো. আজিজুল হক সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিজারুল ইসলাম ভুট্টু, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্লাবন শুভ, শিল্পপতি রাজু কুমার গুপ্তা, দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি মো. আশরাফ পারভেজ, নিহত তন্ময় গুপ্ত মিমো’র মাসী (খালা) প্রভাষক রীতা রানী গুপ্তা, তন্ময় গুপ্ত মিমো’র খালাতো বোন হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী অলংকার গুপ্তা, মো. জয় প্রমুখ।


মানববন্ধন কর্মসূচিতে তন্ময় গুপ্ত মিমোর পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ ফুলবাড়ীর বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নারী ও পুরুষরা অংশ নেন।
তন্ময় গুপ্তের মা শেফালী গুপ্তা বলেন, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পঞ্চগড় হাঁড়িভাসা শাখায় ২০১৭ সালের ১৯ মার্চে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে যোগদান করে তন্ময় গুপ্ত মিমো। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে চাকরিরত অবস্থায় প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ী চলে আসতো মিমো। একই বছরের ২৪ মে ব্যাংকের বিশেষ কাজ আছে বলে তন্ময় গুপ্ত মিমোকে বাড়ীতে আসতে না দিয়ে জরুরি কাজের অজুহাতে ব্যাংকেই রেখে দেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক আবু জাফর মো. সালাম। ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯ টায় আমার সাথে কথা হয় তন্ময় গুপ্ত। পরের দিন সকাল ৭ টায় একাধিকবার ফোন করলে তন্ময় ফোন রিসিভ করে না। পরে একাধিকবার ম্যানেজার আবু জাফর মো. সালামকে ফোন করলে তিনি ফোন কলটি ধরে বলেন, তন্ময় রাতে রাজ শেষে ঘুমিয়েছিল সকালে তাকে ডাকাডাকি করলে কোন সাড়া না পাওয়ায় ব্যাংকের দরজা ভেঙে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরই এক পর্যায়ে ম্যানেজার জানান, আমার ছেলে তন্ময় গুপ্ত মিমো বেঁচে নেই। পরে ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট থানায় আসলে জানা যায়, তন্ময় গুপ্ত মিমোকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পঞ্চগড় সদর থানায় ব্যাংকের ম্যানেজার আবু জাফর মো. সালাম, সিকিউরিটি বুলবুল আলম বিপ্লব ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নাজমুল ইসলামকে আসামী করে আমি নিজেই (শেফালী গুপ্তা) বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করি। যার মামলা নং-২৬২/২০১৭ (পঞ্চগড়)। পরে মামলাটি পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই পর্যায়ক্রমে তদন্ত করেন। তারা তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে ম্যানেজার সন্ধ্যায় বাড়ী চলে গেছে। কিন্তু আমি যখন তন্ময়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলি ওই সময় ম্যানেজার ব্যাংকে উপস্থিত ছিল। তারপরও রহস্যজনক কারণে তদন্তকারী সংস্থাগুলো ম্যানেজারকে রক্ষার জন্য তাকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জ সিট প্রদান করে। পরে ওই চার্জসিটের বিরুদ্ধে আমি আদালতে নারাজি দেই।
তিনি আরো বলেন, পিবিআই যখন তদন্ত করে তখন তারা চার্জশীট আদালতে জমা দেওয়ার চারদিন পর আমার বাড়ীতে লোক দেখানো তদন্তে আসে। এছাড়াও কিছু তদন্তকারী সংস্থার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আমাকে বলেন আপনি সাক্ষী প্রমাণ দেন। আমার ছেলেকে ব্যাংকেই হত্যা করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। এরপরও তারা রহস্যজনক কারণে ব্যাংক ম্যানেজারকে রক্ষার জন্য চার্জসিট থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। অথচ এই ব্যাংক ম্যানেজার আবু জাফর মো. সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররত অবস্থায় আবু বক্কর নামের এক শিক্ষার্থীর হত্যা মামলার চার্জসিট ভুক্ত আসামী। এতো কিছুর পরও আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে আমার কিংবা আমার পরিবারের কোন খোঁজখবর না নিলেও পঞ্চগড় থেকে একদল ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারি আমার বাড়ীতে এসেছিলেন ব্যাংক ম্যানেজার আবু জাফর মো. সালামের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদবির করতে। আজ পর্যন্ত আমার ছেলে পাওনা দেওয়ারও ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্টরা।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই আমার ছেলের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আমার মতো আর যেনো কোনো মায়ের কোল খালি করতে না পারে হত্যাকারীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৬ সকালে পঞ্চগড়ের হাঁড়িভাসা শাখা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কক্ষ থেকে তন্ময় গুপ্ত মিমোর মরহেদ উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *