ফুলবাড়ীতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ।

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে হু-হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি তারা বেশি দামে পণ্য কিনে কিছুটা লাভ রেখে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। এখানে তাদের কিছুই করার নেই। অপরদিকে একই দাবি আড়ৎদার মালিকদের।


যানবাহনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাইরে থেকে বেশি মূল্যে মালামাল কেনায় তাদের দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে। আড়তে এবং খুচরা বাজারে হঠাৎ করে কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পরেছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের আয় অনুযায়ী ব্যয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারের লোকজন।
এদিকে দ্রব্যমূল্যের রাশ টানতে উপজেলা প্রশাসন বা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারগুলো মনিটরিং না করায় পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমনটাই অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।
সরজমিন পৌরবাজার ও জোলাপাড়া বৌ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে কাচাবাজারগুলোতে হু-হু কওে বৃদ্ধি পেয়েছে জিনিষপত্রের মূল্য। হঠাৎ কওে মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।


পৌরবাজারের কাচামাল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ও শাহিন ইসলাম জানান, আড়তে মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় গত এক সপ্তাহে কিছু প্রয়োজনীয় কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। সব কাঁচা পণ্যেই কেজিপ্রতি ১০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পৌর বাজারের ব্যবসায়ী লাল মিয়া, পুণা গুপ্ত ও সুশিল পাল জানান, মোটা চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং আতপ চাল কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া খোলা আটা, লবণ, সুজি, ডাল, সাবান প্রভৃতি পণ্যের মূল্য ৫ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাঁচামাল কিনতে এসে ভ্যানচালক মজিবর ও রিক্সাচালক খতিবুর রহমান জানান, রমজান আসলেই জিনিসপত্রের দাম হু-হু করি বেড়ে যায়। এই সময় গরিব মানুষের জন্য খুব কষ্ট হয়। এখন কম করে জিনিষ কিনে পেট চালাতে লাগছে।
বৌ বাজারে শাক কিনতে এসে ক্রেতা জাহানারা বেগম ও মানিক হোসাইন জানান, হঠাৎ করে শাক-সবজির দাম বেড়ে গেছে। এখন ২০ টাকার নীচে শাক-সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।
চকচকা গ্রামের দিনমজুর মমতাজ উদ্দিন জানান, সারাদিন কাজ করে সাড়ে তিনশ টাকা পাই। সেখানে চাউলের দাম ৫০ টাকা, গোসতোর দাম ৬০০/৭০০ টাকা, মাছের দাম ৩০০-৫০০ টাকা, তরিতরকারিতো আছেই। ঘরে ৫জন খাওয়াইয়া। রোজার মাসে আমরা কামলা দেওয়া মানুষ চলবো কীভাবে।
পাইকারি ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম, শিশির চন্দ্র জানান, এখন বাজারদর চড়া, যানবাহনেও ব্যয় বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে লাভ করতে গিয়ে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলার সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চলমান রয়েছে। ফুলবাড়ীতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।