ফুলবাড়ীতে কিশোরীকে গণধর্ষণসহ ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণের অভিযোগ তিন যুবক গ্রেপ্তার।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর হাজির মোড় গ্রামের এক কিশোরীকে গণধর্ষণসহ ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, গত শনিবার (৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর হাজির মোড়স্থ মডার্ণ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পার্শ্বের নির্জন এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দক্ষিণ বাসুদেবপুর হাজির মোড় গ্রামের মো. বেনজু মিয়ার ছেলে মো. আসিফ (১৯), একই গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের ছেলে মো. সাগর ইসলাম (২২) ও ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকচকা তেলিপাড়া গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ (২১)। গত রোববার (১০ এপ্রিল) গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে শনিবার (৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মো. আসিফ (১৯) একই গ্রামের ওই কিশোরীকে কৌশলে বাড়ী থেকে ডেকে স্থানীয় মডার্ণ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পার্শ্বের নিজন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আসিফের সাগর ইসলাম (২২) ও মো. সোহাগ (২১) মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। তারাও ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তারা ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।


দীর্ঘ সময় কিশোরীটিকে বাড়ীতে না পেয়ে বাড়ীর লোকজন খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে ওই স্কুলের পাশ থেকে অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করেন তার পিতা। বাড়ীতে এসে কিশোরী ধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র ধারণের বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানায়। এ সময় পরিবারের লোকজন স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য নূর ইসলাম নূরুকে ঘটনাটি জানান। ওয়ার্ড সদস্য নূর ইসলাম নূরু ওই রাতেই অভিযুক্ত তিন যুবককে আটক করে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশে সোপর্দ করেন। একই সাথে অসুস্থ ওই কিশোরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ওয়ার্ড সদস্য নূর ইসলাম নূরু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আটক তিন যুবক ধর্ষণ ও মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণের কথা স্বীকার করেছে।’
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার এবং ধর্ষণের ভিডিও চিত্রসহ মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে গত রবিবার (১০ এপ্রিল) থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে এবং কিশোরীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল দিনাজপুরে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ এবং ভিডিও চিত্র ধারণের কথা স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃত তিন যুবক।