প্রধানমন্ত্রির উপহারের ঘর দেওয়ার আশ্বাসে ৩ হাজার টাকা নেন ইউপি মেম্বার ৬ সন্তান থেকেও বৃদ্ধার ঠাঁই রাস্তার পাশে ঝুঁপড়ি ঘরে



মো:রেজাউল করিম রঞ্জু,নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের এক বৃদ্ধা মহিলাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দিবে বলে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেন ওই ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল হোসেন। কিন্তু আজও ঘর পাননি ওই বৃদ্ধা। ওই বৃদ্ধার ৬ সন্তান থাকলেও তিনি রাস্তার পাশে ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের প্রশ্চিম বামন ডাঙ্গা দোলাপাড়া ডিবের পারের বাসিন্দা মৃত্যু-নাসির উদ্দিনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৭০) তিনি রাস্তার পাশে ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করেন। আর মানুষের বাড়ীতে সাহায্যে নিয়ে জোটে তার পেটের খাবার। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও কেউ তাকে দেখাশুনা করেন না।তিনি রাস্তার ধারে ও অন্যের জমিতে একটি ঝুঁপরি ঘরে থাকেন।
বৃদ্ধার বড় মেয়ে খালেদা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমরা ছয় ভাই বোন তবে আমরাও গরীব কিভাবে মাকে দেখি,তবুও আমি যতটুকু পারি মায়ের খোঁজ খবর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু ইসলাম,রাশিদা বেগম বলেন,বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের ছয় ছেলে মেয়ে থাকলেও কেই তাকে দেখেন না। তিনি রাস্তার পাশে ঝুঁপরি ঘরে থাকেন।আর মানুষের বাড়ীতে হাত পেতে যা পান তা দিয়ে পেটের ক্ষুদা নিবারন করেন। কিন্তু বাবুল মেম্বার প্রধানমন্ত্রির ঘর দিবে বলে যে টাকা নিয়েছে, তিনি এটা ঠিক কাছ করেন নাই।
বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের সাথে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি বলেন, মোর ছয় ছেলে মেয়ে। কেউ মোক দেখে না।মুই অন্যের বাড়ীত চায়া যা জোটে তাক দিয়া মুই এক মুঠ ভাত খাও। আর আস্তার পাশত মানসির ভুইত একখানা ঘর তুলিয়া আছো। মেম্বার বাবুল মোক প্রধানমন্ত্রির ঘর দিবে কয়া তিন হাজার টাকা নিসে, কিন্তু আইজও মুই ঘর পাও নাই। মেম্বার মোক টাকা ফেরত দেউক না হইলে ঘর দেউক। মুই অনেক কষ্ট করিয়া তিন হাজার টাকা জোগার করছু সেই টাকা মেম্বার বাবুল খায়া ফেলাইসে।মেম্বারের মুই বিচার চাও।
ইউপি মেম্বার বাবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি তিন হাজার টাকা নেই নাই। কার্ড করার জন্য এক হাজার টাকা নিয়েছিলাম।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহীম তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *