পল্লীবিদ্যুৎ কতৃপক্ষের ভেলকিবাজীর খপ্পরে পড়ে সেচের অভাবে নষ্ঠ শতবিঘা জমির বোরো ধান।

রউফুল আলম, তারাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বেচ্ছাচারিতায় জমিতে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় প্রায় শত বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। রণচণ্ডী ইউনিয়নের কিশামত ব্যাঙপাড়া ডাঙা মাঠে শত বিঘা জমিতে সেচকাজে ব্যবহৃত লাইন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাওয়ায় সেচ কাজ ব্যাহত হয়। এতে জমির ধান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা অভিযোগ দিয়ে পাত্তা পাচ্ছে না। বিঞ্চু চন্দ্র রায় এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এ জিএম বরাবর অভিযোগ দিলে সতর্কীকরণ নোটিশ না দিয়ে সেচ চলাকালীন অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জম হোসেনের নির্দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে  চার হাজার টাকা জরিমানা করে জরিমানার টাকা পরিশোধ হলে ১০/১২ দিন পর পুনঃসংযোগ দেয়া হয়।


অনুসন্ধানে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় উপজেলাজুড়ে এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলনও হয়েছে। রনচন্ডী ইউনিয়নের কিশামত ব্যাঙপাড়া ডাঙ্গায় ৬০/৭০ জন প্রান্তিক কৃষকের প্রায় শত বিঘা জমি রয়েছে। প্রতি বছর ইরি-বোরো মৌসুমে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সেচ পাম্পের পয়েন্ট থেকে কমানডিং এরিয়ার মধ্যে কৃষি জমিতে সেচ দেয়া হয়। ব্যাঙপাড়ার বিঞ্চু রায় কিশোরগঞ্জ বিএডিসি থেকে ৫ হর্স পাওয়ার অগভীর সেচ পাম্প ২০২০ সেচ প্রকল্পের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে উক্ত পাম্প টি পরিচালনা করে আসছে। গত বছর ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছরও কিশামত ব্যাঙপাড়ার কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে জমিতে ধান চাষ করে ছিলেন। কিন্তু যখন ওই জমিগুলোয় আরো কমপক্ষে মাস দুয়েক সেচের প্রয়োজন, এমন সময় ২ এপ্রিল/২২ দিবাগত রাতে আকষ্মিক দুর্যোগের কারণে ট্রান্সফরমারের ফেস পড়ে যায়। বিযয়টি ঢেপারহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানালে তারা এসে টেস্ট করে ট্রান্সফরমার মেরামত করতে হবে বলে নিয়ে যায়।


জানা যায়, বিঞ্চু রায় যাতে তার কমান্ডিং এরিয়ার মধ্যে কৃষি সেচ দিতে না পারে তাকে সেচ প্রদান হতে চিরতরে উচ্ছেদ করার জন্য মিথ্যা অজুহাতে গাড়াগ্রাম ঢেপারহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জসহ কয়েকজন লাইন ম্যান বিঞ্চু রায়ের ট্রান্সফরমার খুলে মেরামতের কথা বলে নিয়ে যায়। ৫ কেবি ট্রান্সফরমার নং ৩৭৯৫।
পানি সরবরাহের জন্য কৃষকরা বিঞ্চু রায়কে চাপ দিতে থাকলে বিঞ্চু রায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম বরাবর আবেদন করেন। আবেদন করলে নানা টালবাহানা শুরু করেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা।

কিশোরগঞ্জ ঢেপারহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ইনচার্জ আতিককে ট্রান্সফরমার কোথায় নিয়ে গেছেন জানতে চাইলে, তিনি জানান, চাঁদের দেশে আছে। চাঁদের দেশ থেকে ট্রান্সফরমার আসলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। উদ্ভটসব প্রত্যারণামুলক কথাবার্তা। বিদ্যুৎ -এর অভাবে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ায় এতে ওই গ্রামের শত বিঘা জমির ধান চিটা হয়ে গেছে।
যেখানে জমিগুলোয় বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে মাত্র তিন-চার মণ ধান ঘরে তুলতে পারবেন হয়তো কৃষকরা। অধিকাংশ ধান চিটা হয়ে গেছে। ধানের অবস্থা দেখে ললিত চন্দ্র রায় নামে এক কৃষক মাঠেই স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনাও ঘটেছে।
ব্যাঙপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রবি রাম রায়, হুলামিন, মমিনুর, তালেব মিয়া বলেন, গত বছর ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর প্রত্যেকেই ৩/৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। পল্লী বিদ্যুতের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সেচের অভাবে আমাদের জমির সম্পূর্ণ ধান নষ্ট হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অসৎ কর্মকর্তার বিচার দাবি করছি।
একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সচেন রায় ও হরিসংকর রায় বলেন, এ সেচ প্রকল্পের আওতায় আমাদের প্রায় শত বিঘা জমি রয়েছে। সেচের অভাবে জমির ধানগুলো নষ্ট হওয়ায় আমি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। প্রতি বছর এ জমিগুলোয় বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ মণ ধান পেতাম, এবার সেখানে মাত্র তিন-চার মণ ধান পাব হয়তো। শুধু পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির কারণেই আজ আমাদের এ দুর্দশায় পড়তে হয়েছে। কে দিবে এই ক্ষতিপূরণ? এ এক কঠিন দুঃসময়! এ দুঃসময়ে ভাল থাকি কি করে? পল্লী বিদ্যুৎ-এর উদ্ভদদাবী ও প্রত্যারণার খপ্পরে পড়ে সবাই সর্বশান্ত। দেখার কেউ নাই। কে দিবে সমস্যার সমাধান করে? কৃষকরা এ চিন্তায় অস্থীর।
ঢেপারহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ইনচার্জ আতিক–এর ০১৭৬৯৪০২৩১৮ নাম্বারে ফোন করলে জানান, চাঁদের দেশ থেকে ট্রান্সফরমার আসলে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড করেন ০১৭৫১১১৭৮৫৯ বিঞ্চু চন্দ্র রায় ভেঙে পড়েন। এখন কি করবেন? কোথায় কার কাছে যাবেন? এ চিন্তায় অস্থির।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম জিয়ারুল ইসলাম জিয়া জানান, বিঞ্চু রায়কে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া আছে। সে পুনঃসংযোগের জরিমানা ফি জমা করলে আজকেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে  অভিযোগকারী বিঞ্চু রায় জানান, আমি জরিমানা ফি দেয়ার জন্য অফিসে গেলাম। ফি জমা নেয় নাই। তোমাকে এটা করতে হবে ওটা করতে হবে। সময় ক্ষেপন করেই চলছে। এখন পর্যন্ত সংযোগ ও দেয় নাই।