নীলফামারীর তিস্তা পারের মানুষ নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মো: রেজাউল করিম রঞ্জু, নীলফামারী প্রতিনিধি: বর্ষার আগমনে তিস্তা নদীর তীরের নৌকার মাঝি, জেলে ও চরের বাসিন্দারা সরব হয়ে উঠেছেন। অনেকেই তৈরি করছেন নতুন নৌকা। অনেকেও আবার পুরোনো নৌকাও মেরামত করছেন।
শুস্ক মৌসুমে তিস্তায় নৌকা চলাচল কমে যায়। বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তিস্তা নদীর এপার ওপার ভরে গিয়ে কুলকিনারা পাওয়া যায় না। প্রতিবছর ডুবে যায় প্রায় ৪টি ইউনিয়ন। তখন তিস্তা উপকুলবর্তী নৌকার মাঝি, জেলে, কৃষক ও বাসিন্দাদের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা তীরবর্তী চর কিসামত, ডালিয়া ব্যারেজ, চর খড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, ভেন্ডাবাড়ি চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় এখন পুরোনো নৌকা মেরামত ও নতুন নৌকা তৈরির ব্যস্ত সকলে। সবাই শুস্ক মৌসুমেই নিজেদের নতুন নৌকা তৈরি ও মেরামত করে বর্ষার জন্য প্রস্তুত রাখছেন।


তিস্তা তীরবর্তী নৌকার মাঝি আলম শেখ ও রহিম মিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতিবছরই পুরোনো নৌকা মেরামত করতে হয়। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হয়। শুস্ক মৌসুমের মেরামতকৃত নৌকা দিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপার, সবজি ও মালামাল পরিবহন করতে হয়। এছাড়া স্থানীয় জেলেরা নৌকা নিয়ে বর্ষা মৌসুমে নদীর গভীরে গিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।


চর কিসামত ঘাটের মাঝি জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি কম থাকে। এ সময় পুরোনো নৌকাগুলো মেরামত করে নিতে হয়। তিনি ইতোমধ্যে ৩টি নৌকা মেরামত করে বর্ষার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। একটি ১০টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নৌকা তৈরিতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়,এ সময় নৌকা তৈরীর কাড়িগড়দের কদর বেড়েছে, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নৌকা তৈরী করতে হচ্ছে।


নৌকা তৈরীর কারিগর মাহমুদ আলী জানান, গত ৪০ বছর ধরে এ পেশা ধরে রেখেছি। প্রতি মৌসুমে ছোট-বড় প্রকারভেদে ২০-২৫টি নৌকা তৈরি করে থাকি, পুরাতন নৌকাও মেরামত করি। একটি নৌকা তৈরিতে ১০থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। নতুন নৌকা তৈরিতে আকাশমণি, মেহগনি, কড়াই, ছামালিশ গাছ বেশি ব্যবহার হয়।
খোগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জানান, বর্ষায় তিস্তা চরাঞ্চচলের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই সামনে বর্ষার আগমন জেনে নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই এলাকার মানুষ।