নীলফামারীতে হারিয়ে যাচ্ছে কাউন চাষ।


মো:রেজাউল করিম রঞ্জু,নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার আদি জনপ্রিয় ও মঙ্গা তাড়ানি শষ্যদানার ফসল কাউন চাষ হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় নীলফামারী কৃষিতে ধান বলতে ছিল, আউশ (ভাদাই)আমন চাষ। এসব ধানের পাশাপাশি তালিকায় ছিল কাউন চাষ। ধানের ফলন তেমন না হওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়ত কৃষকেরা। এ সংকট মেটাতে বিকল্প ফসল হিসাবে কাউনের কদর ছিল ব্যাপক। আশ্বিন ও কার্তিক মাসে ধানের গোলা শুন্য হয়ে পড়তো কৃষকের। তখন এসব পরিবারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ ভাতের বিকল্প হিসেবে কাউনের ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করত।


গ্রামীণ নারীরা ঢেঁকি কিংবা উড়ুন-গাইনে কাউন ছেঁটে চাল তৈরি করত। পুষ্টিকর এ চালে রুটি, ফিন্নি,পায়েস ক্ষীর,নাড়ু,মোয়া,খাজা এমন হরেক পদের সু-স্বাদু খাবার তৈরী করতেন কাউন দিয়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে কাউনের চাষ দিনদিন অচেনা হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,এবার জেলায় ১ হেক্টর জমিতে কাউনের চাষ হয়েছে।
ফসলটি চৈত্র মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাসে ফসল ঘরে ওঠে। এতে কোনও সেচের প্রয়োজন হয় না। কাউনের শীষ ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার পর বাকি গাছের অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।কাউন চাষে প্রতি বিঘায় ফলন হয় ৫ থেকে ৬ মণ। তাই কাউনের উন্নত জাত সরবরাহ করে স্থানীয় কৃষি অফিসের তদারকির মাধ্যমে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের এ ফসল বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার দাবি সচেতন মহলের।


নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের ইটাখোলা গ্রামের কৃষক শ্রী অতীন্দ্র নাথ রায় বলেন, আগত হামার এটে কাউন ঢেইল্ল্যা আবাদ হইলহায়। এলা আর কাহয় আবাদ করে না, কাউনোত খরচ কম। এবার মুই ৭ শতক জমিত কাউন আবাদ করছু। খরচ বাদে মোর চার হাজার টাকা লাভ হইবে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুরাকুটি গ্রামের কৃষক আতিয়ার জানান, হামরা আগত কাউনের চাষ অনেক করছিনো,এখন ভালো বীজ না পাওয়ায় ও পরামর্শর অভাবে কাউন এবার ১৫ শতাংশ মাটিত করছু,ফলন ভালো হইছে খরচ বাদে প্রায় মোর আট হাজার টাকা লাভ হইবে।


জেলা কৃষি উপ-পরিচালক মো: আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নীলফামারীতে কাউনের চাষ অনেক কম। কাউন নিয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কোন প্রদর্শনীর চিন্তা ভাবনা নেই। কৃষকের যেটা আবাদ করলে লাভ হবে তারা সেটাই করবে।যদি কেউ কাউন চাষ করতে চায়,আমরা পরামর্শ দিবো।