নীলফামারীতে শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও আমাদের করণীয় আলোচনা সভা।

রেজাউল করিম রঞ্জু, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারী শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও আমাদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২.৩০ পর্যন্ত নীলফামারীতে সদর উপজেলায় দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং দ্বীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও আমাদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং দ্বীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাল্গুনী রেজা, আইআইডি ইয়ুথ ফর পলিসি, ঢাকা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রত্না সিনহা, আসমানী যুব নারী ফাউন্ডেশন সভাপতি শিরিন আক্তার আশা, নতুন স্বপ্ন বাংলাদেশ যুব সংগঠন সাধারণ সম্পাদক ছবি রাণী রবি দাস সহ নীলফামারী জেলার যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ বর্তমানে এক অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। নানাভাবে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণগুলির মধ্যে শব্দদূষণ একটি। শব্দদূষণ যে পর্যায়ে অবস্থান করছে তা খুবই আশংকাজনক। সেটা সমস্যা মনে হলেও আমাদের অসচেতনতার কারণে আমরা প্রায়শ বলে থাকি এটার নিরসন সম্ভব নয়। কিন্তু এ সমস্যাগুলো মানুষেরই তৈরি। আমরা একটু সচেতনতা অবলম্বন করলেই এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মানুষের তৈরি এমন একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশগত সমস্যা হলো শব্দদূষণ। বাড়িতে, অফিসে, রাস্তাঘাটে এমনকি বিনোদনের সময়ও আমরা বিভিন্নভাবে শব্দদূষণের শিকার হচ্ছি। শব্দ দূষণ বিষয়টি কত ডেসিবল শব্দে আপনি কতটুকু সময় কাটাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে। ১২০ ডেসিবেল শব্দ সাথেই সাথে কান নষ্ট করে দিতে পারে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ৮৫ ডেসিবেল শব্দ যদি কোন ব্যক্তির কানে প্রবেশ করে তাহলে তাহলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি নষ্ট হবে।

মানুষ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল শব্দে কথা বলে। ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত মানুষের কান গ্রহণ করতে পারে। ৮০ এর উপরে গেলেই ক্ষতি শুরু হয়। বছর কয়েক আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের করা এক জরিপে উঠে এসেছে যে মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা মনে করি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐক্যবদ্ধ কর্ম প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত দিক নির্দেশনা শব্দদূষণকে নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।