নীলফামারীতে জমি সংক্রান্ত জটিলতায়
নির্মান শেষ হচ্ছেনা বদ্ধভূমি


মো:রেজাউল করিম রঞ্জু,নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ছয় উপজেলায় নয়টি বদ্ধভূমি রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহার বদ্ধভূমি সমুহ সংরক্ষন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের বড়বাধা হয়ে রয়েছে জমিগুলো বুঝে না পাওয়ায়। জেলা প্রশাসন কর্তৃক জমিগুলো বুঝে পেলেই জেলা গণপূর্ত বিভাগ দরপত্র সহ যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করবেন। নয়টি বদ্ধভূমির মধ্যে পর্যায়ক্রমে পাঁচটির নির্মান কাজ হয়েছে, তবে জমি জটিলতার কারনে চারটি বদ্ধভূমি অযতœ-অবহেলায় পরে রয়েছে।
জেলায় বদ্ধভূমিগুলো হলো, সদরে একটি খালিশাপাড়া চৌধুরী পাড়া শুটিপাড়া বদ্ধভূমি। ডোমার উপজেলায় রয়েছে তিনটি চিলাহাটি ভোগডাবুড়ি, মির্জাগঞ্জ খানপাড়া, প্রশ্চিম বোরাগাড়ী, ডিমলা উপজেলায় রয়েছে একটি সঠিবাড়ী বাজার গয়াবাড়ী, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে একটি বাহাগিলি বসুনিয়াপাড়া (নেথার বাজার) বদ্ধভূমি, জলঢাকা উপজেলায় রয়েছে একটি কালিগঞ্জ গোলনা বদ্ধভূমি, সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে দুইটি বোতলাগাড়ী কয়া ও কয়া গোলাহাট বদ্ধভূমি।
সদর: সদরে রয়েছে একটি বদ্ধভূমি। খালিশাপাড়া চৌধুরী পাড়া শুটিপাড়া বদ্ধভূমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত হওয়ার কারনে জরাজীর্ন অবস্থায় অযতœ আর অবহেলায় পরে রয়েছে বদ্ধভূমিটি। বাঁশের ঝোপঝাড় ছারা আর কিছু নেই ওখানে। স্থানীয়রা জানান বদ্ধভূমিটি এখন বাঁশের তল নামে পরিচিত। সংস্কারের জন্য জরুরী ভূমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন।
ডোমার: ডোমার উপজেলায় রয়েছে তিনটি বদ্ধভূমি। তারমধ্যে দুইটিতে বদ্ধভূমি নির্মান কাজ চলমান। চিলাহাটি ভোগডাবুড়ি বদ্ধভূমির জায়গার পরিমান ১৫ শতক, সেখানে নির্মান কাজ প্রায় শেষের দিকে। মির্জাগঞ্জ খানপাড়া বদ্ধভূমির জায়গার পরিমান ১৯ শতক সেখানে নির্মান কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রশ্চিম বোরাগাড়ী বদ্ধভূমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত। তাই অযতœ আর অবহেলায় পরে রয়েছে বদ্ধভূমিটি। এলাকাবাসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বদ্ধভূমিটি নির্মানের জন্য জরুরী ভূমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন।
ডিমলা: ডিমলা উপজেলায় রয়েছে একটি বদ্ধভূমি। সঠিবাড়ী বাজার গয়াবাড়ী বদ্ধভূমির জায়গার পরিমান ১৯ শতক। তিস্তা নদী এলাকায় হওয়ায় জায়গাটি অনেক নিচু। জায়গাটি মাটি ভরাট ও রিটেইনিং ওয়াল করার জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে একটি বদ্ধভূমি। বাহাগিলি বসুনিয়াপাড়া (নেথার বাজার) বদ্ধভূমি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত হওয়ার কারনে জরাজীর্ন অবস্থায় অযতœ আর অবহেলায় পরে রয়েছে বদ্ধভূমিটি। স্থানীয়রা জানান বদ্ধভূমিটি সংস্কারের জন্য জরুরী ভূমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন।
জলঢাকা: জলঢাকা উপজেলায় রয়েছে একটি বদ্ধভূমি। কালিগঞ্জ গোলনা বদ্ধভূমি। ২০১৮ সালে নীলফামারী এলজিইডি কর্তৃক নির্মান কাজ করা হয়েছে।
সৈয়দপুর: সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে দুইটি বদ্ধভূমি। বোতলাগাড়ী কয়া ও কয়া গোলাহাট বদ্ধভূমি। দুইটি পাশাপাশি মৌজার সীমানায় অবস্থিত হওয়ার কারনে প্রকৃতপক্ষে বদ্ধভূমি একটি করা হয়। ২০১৮ সালে নীলফামারী এলজিইডি কর্তৃক নির্মান কাজ করা হয়েছে।
জেলা গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো:তৌহিদুজ্জামান বলেন, ডোমার উপজেলার দুইটি বদ্ধভূমি নির্মান কাজ চলমান,তবে কাজ শেষের দিকে। চিলাহাটি ভোগডাবুড়ি বদ্ধভূমি ও মির্জাগঞ্জ খানপাড়া বদ্ধভূমি। বদ্ধভূমি দুইটির কাজ অনেক সুন্দর হয়েছে, বদ্ধভূমি দুইটি স্মৃতিময় হয়ে রবে সারাজীবন।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বদ্ধভূমিগুলো যেনো স্মৃতিময় হয়ে থাকে আমরা সেদিকে নজর রাখি সবসময়। যেসব বদ্ধভূমি এখনও নির্মান করা হয়নি সেগুলো জমি সংক্রান্ত বা অন্য কোন সমস্যা থাকলে দ্রæত সম্ভব সমাধান করে নির্মান করার ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *