নির্মানের তিন মাস পরেই হেলে পড়ে সেতু নীলফামারীতে সেতু সংস্কার না করায় দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ।

মো:রেজাউল করিম রঞ্জু, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর জলঢাকায় গত পাঁচ বছর আগে বন্যায় হেলেপড়া সেতুটি আজও সংস্কার না করার ফলে চলাচলে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পথচারী ও এলাকাবাসী দ্রুত সেতুটি সংস্কারের দাবি জানান। সেতুটি সংস্কার না করায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১নং ডাউয়াবাড়ি চরভরট গ্রামের সড়কে সেতুটি। ওই ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের যাতায়াতের মুল সড়ক এটি। ইউনিয়নের বাসিন্দারা ইউনিয়ন অফিস, হাট বাজার,স্কুল কলেজ ও উপজেলা শহড়ে যাওয়ার একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। চলাচলের অনুপযোগী সেতুটি রয়েছে এই সড়কে,সেতুর সংযোগ সড়কটিও ভেঙ্গে যায়। বিপাকে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা সহ দুরদুরান্ত থেকে আসা পথচারীরা। ২০১৭ সালের ১০ আগষ্ট বন্যায়, সেতুটি একদিকে হেলে পড়ে। তারপরেও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। বিভিন্ন প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সেতুটি সংস্কার হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া ও জিয়াউর রহমান জানান, আমাদের উপজেলা শহড়ের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। এই সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটি ত্রাণের টাকায় নির্মিত হয় ২০১৭ সালের মে মাসে, আর হেলে পরে আগষ্ট মাসে, অর্থ্যাৎ নির্মান শেষ হয়ে তিন মাস পরেই হেলে পরে। ওই বছরেই বন্যার পানিতে সেতুটি হেলে পড়লে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সড়ক ও সেতু চলাচল উপযোগী করতে এলাকাবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় বালু ফেলে ও বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই বালুও গতবারের বন্যায় নষ্ট হয়ে সেতু চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমান বাঁশের সেতুটিও ভেঙ্গে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে বিকল্প পথে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।


ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল জানান, সেতুটি হেলে পড়ার দিনই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধান ও প্রকৌশলী হারুন অর রশীদকে জানানো হয়েছিল। সেই সময় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো সহ দ্রæত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছর হয়ে গেলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ময়নুল হক জানান, গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ত্রাণের ১২ লাখ টাকায় এ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের মে মাসে কাজ শেষ হয়। সেই সময় বন্যার পানিতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল।