দিনাজপুর মাটি ও খড় মেশানো কাদা দিয়ে তৈরি দীপশিখা মেটি স্কুল।

এনামুল মবিন(সবুজ), স্টাফ রিপোর্টারঃ দীপশিখা মেটি স্কুলটির ভবন আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার ও কারি স্টোন নকশা পুরস্কার জিতেছে। বিরল উপজেলার রুদ্রাপুর গ্রামে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকার দরুন ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি বিদ্যালয় গড়ে তোলে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়।

২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিরল উপজেলার রুদ্রাপুর গ্রামে মেটির মাটির স্কুলঘর নির্মাণ শুরু হয়। জার্মানির “শান্তি” নামের এক দাতাসংস্থা একাজে অর্থায়ন করে। অস্ট্রিয়ার লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীপশিখা প্রকল্পের কর্মীরা ইমারতটি নির্মাণের সাথে যুক্ত ছিলেন। জার্মান স্থপতি অ্যানা হেরিঙ্গার ও এইকে রোওয়ার্গ এই ইমারতটির নকশা করেন।


ইমারতটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে মাটি, খড়, বালু ও বাঁশ, দড়ি, খড়, কাঠ, টিন, রড, ইট ও সিমেন্ট। মাটি ও খড় মেশানো কাদা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এর দেয়াল দেয়ালের ভিতের ওপর দেওয়া হয়েছে আর্দ্রতারোধক।


ইমারতটির দেয়ালের প্লাস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে মাটি ও বালু। মেঝের প্লাস্টারের জন্য পামওয়েল ও সাবানের পেস্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ইমারতটিতে বাইরে থেকে প্লাস্টার করা হয় নি।
ইমারতটির ৯ ফুট উচ্চতার ওপরে প্রথম তলায় ছাদ হিসেবে বাঁশ বিছিয়ে ও বাঁশের চাটাই দিয়ে মাটির আবরণ দেওয়া হয়েছে। ১০ ফুট উচ্চতার ওপরে দোতলার ছাদে বাঁশের সাথে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। ওপরে বৃষ্টির পানি প্রতিরোধ করার জন্য দেওয়া হয়েছে টিন। কোথাও ইট ব্যবহার করা না হলেও ঘরের কাঠামো হিসেবে ইট ব্যবহার করা হয়েছে।


ইমারতটি নির্মাণে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার ১০ জন শিক্ষার্থীর সাথে ১৯ জন স্থানীয় শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবন মাটির তৈরি একটি দোতলা ভবন যার আয়তন ৮,০০০ বর্গফুট। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ লাখ টাকা।
২০০৮ সালে ইমারতটি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছিল। এছাড়া, আনা হেরিংগার ২০০৯ সালে ইমারতটি নকশা করার জন্য কারি স্টোন নকশা পুরস্কারে ভূষিত হন।