দিনাজপুর ফুলবাড়ীতে হত্যার ১৩ বছর পর ৩ জনের ফাঁসি ও ৪ জনের যাবজ্জীবন।

এনামুল মবিন(সবুজ), স্টাফ রিপোর্টারঃ দিনাজপুর ফুলবাড়ীতে মুদি দোকানদারকে হত্যার পর লাশ গুমের মামলায় ৩ জনকে মত্যুদন্ড ও ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকালে দিনাজপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে-(২) বিচারক মেহেদী হাসান মন্ডল এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত রায় প্রদানের সময় সকল আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করা হয়। আদালতের সহকারী পিপি মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মোঃ শরীফুল ইসলাম (৪৩), মোঃ আজাহার আলীর ছেলে মোঃ রেজাউল করিম বাবু (৪৮) ও মোঃ আজিজ সিদ্দীকির ছেলে মোঃ আতোয়ার ওরফে আতর আলী (৫১)।

এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আতোয়ার আলীর ছেলে মোঃ গোলাম রব্বানী (৪৪) ও একরামুল হক (৫১), মৃত: সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাঈদ আলী (৫৮) ও ইদ্রীস আলীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর এক ধারায় আসামিদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, ২০০৯ সালে দিনাজপুর  ফুলবাড়ী উপজেলার গরপিংলাই গ্রামের সাইফুল ইসলাম তার জমিজমা বড় ভাই শহীদুল ইসলামের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম বাবু ও হুমায়ুন কবীরের নামে লিখে দেন। কিছু দিন পর হুমায়ুন কবীর তার মুদি দোকান থেকে বের হয়ে জয়নগর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এরপরে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরের দিন এমআইবি নামক ইটভাটা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। মরদেহ উদ্ধারের দিন নিহতের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই হুমায়ুন কবীরকে হত্যা করেন আসামিরা। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালত এরায় দিলো।

আদালতের সহকারী পিপি মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল বলেন, মামলায় বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে জয়নগর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হুমায়ুনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এরায় ঘোষণা করেন। আদালতে এরায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আমরা অত্যন্ত খুশি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্তি ছিলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট একরামুল আমিন ও  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্তি ছিলেন সহকারী পিপি শাহ মাস্তাফিজুর রহমান টুটুল।