দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খনিজ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা।

এনামুল মবিন (সবুজ), স্টাফ রিপোর্টারঃ দিনাজপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় কোন না কোন খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলছে। অপেক্ষা শুধু পরিক্ষা নিরিক্ষা করে তার সত্যতা প্রমান করা।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কয়েকটি স্থানে ক্ষণিজ সম্পদের কথা কবি ফজলে রহমান চৌধুরী তার বর্ণনায় তুলে ধরেন। তার মধ্যে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ডেবিডুবা পুকুর থেকে পাঁচপীর পুকুর হয়ে দলবাড়ী নামে এক দোলা হয়ে এই খনিজ সম্পদ রয়েছে। যেখানে আকরি লোহা জমির উপরেও মাঝে মাঝে লক্ষ করা যায়। তাছাড়াও এই স্থানে তেল গ্যাস এর মত খনিজ সম্পদ সন্ধানে খোঁজ মিলতে পারে।


যেমনি করে কিছুদিন পূর্বে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় লোহার খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কূপ খনন শুরু হয়। জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় লোহার খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কূপ খননকাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল বাকী খান মজলিশ এ কাজের উদ্বোধন করেন।
ভূতাত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরিকের পুরুত্ব অনেক বেশি। তাই লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশাও করছেন তারা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্থফাপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামে রাস্তার পাশে ইছামতি নদীর ধার দিয়ে খনিটির অবস্থান চিহ্নিত করেছে ভূতাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক আলী আকবর বলেন, ‘নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরিকের পুরুত্ব অনেক বেশি। তাই লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশাও করছি আমরা। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয়েছে। তবে আমাদের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল বাকী খান মজলিশ বলেন, ‘বাংলাদেশ খনিসমৃদ্ধ দেশ নয়। এদেশে খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও কম। তবে সম্ভাবনা যাই থাকুক না কেন আমরা আশাবাদী থাকবোই। আমাদের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কাজই হচ্ছে আশা ও সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা। তাই এখন শুধু আমাদের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। খননকাজ শেষ করে আমরা বিস্তারিত বলতে পারবো। এরআগে এখানে কী আছে বলা মুশকিল।’

এরআগে ২০২১ সালের ২ এপ্রিল দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে একটি খনির সন্ধানে ড্রিলিং (খনন) কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রায় একমাস কার্যক্রম শেষে তা সমাপ্ত করে চলে যান ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে সেখানে কিছু পাওয়া গেছে কি না তা সাধারণ মানুষ কিছুই জানতে পারেনি।

খনির কূপ খননকাজের দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) শহিরুল ইসসলাম।