দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার বোরো চাষিদের দূর্ভোগ চরমে।

এনামুল মবিন(সবুজ), স্টাফ রিপোর্টারঃ দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার বোরো চাষিদের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। একই সাথে ধান কাটা ও মাড়াই করা মজুরদের লাগামহীন দাবিতে কৃষকেরা আরো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিও বেড়েছে কয়েকগুন।

উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দু-দিনের টানা বর্ষনে বৃষ্টির পানিতে ধানের জমি তলিয়ে গেছে। ধান পুরোপুরি পেঁকে যাওয়ায় জমিতে ধান ফেলেও রাখতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় হতাশ হয়েও বেশি দামে ধান কাটা ও মাড়াতে বাধ্য হয়েছেন কৃষকরা। অপরদিকে বাড়ির উঠান ভিজে গিয়ে কর্দমাক্ত হওয়ায় পাকা সড়কে অথবা খেলার মাঠে ধান শুকাচ্ছেন কৃষকরা। ধান ভিজে যাওয়ার সুযোগকে সদ্ব্যবহার করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, ধান ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা। তারা কম দামে ধান কিনতে কৌশলে কৃষককে অনবরত ভূল বোঝাচ্ছেন।

ফতেজংপুর ইউনিয়নের বড় হাশিমপুর গ্রামের কৃষক আরিফ হোসেন ও এরশাদ আলী জানান, কয়েক ঘন্টার টানা বর্ষনে ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে আনা ও মাড়াই করতে অতিরিক্ত ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বৃষ্টির আগে বিঘা প্রতি যেখানে ৫ হাজার টাকা ছিল, বর্তমানে তা ৮ হাজার টাকা হতে সাড়ে ৯ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। রোদ না থাকায় ওই ধান শুকাতে না পেরে কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ধান চুক্তিতে কাটানো মজুর সর্দার আসফাকুর রহমান বাবু বলেন, বাড়ির কাছাকাছি জমি হলে ক্রয়মুল্য ৮ হাজার টাকা ও দূরের জমি হলে দুরত্ব অনযায়ী দাম চাওয়া হচ্ছে। যে রাজী হচ্ছে, তার ধান আমরা কেটে দিচ্ছি। ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান পরিবহনে প্রচুর কষ্ট করতে হচ্ছে। তারপরও দিনশেষে একজন মজুর মাত্র ১৫ শত হতে ১৮ শত টাকা ইনকাম করতে পারছে। বৃষ্টি বেশি হলে ক্রয়মুল্য আরো বাড়ানো হবে।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা শারমিন বলেন, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর। ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৩ টন এবং চালের লক্ষ্যমাত্রা ৮৫ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন। উপজেলায় চালের বার্ষিক চাহিদা ৫৯ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন। টানা দু-দিনের বৃষ্টিতে কৃষকগণ চরম বেকায়দায় পড়েছেন। তারপরও তাঁরা সামলানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তিনি কৃষকদের আরো একটু ধৈর্য ধরে উদপাদিত ধান সংরক্ষণের অনুরোধ করেছেন।