দিনাজপুরে ধানে ভরা মৌসুমেও নেই চালের বাজারের স্বস্তি।

এনামুল মবিন(সবুজ), স্টাফ রিপোর্টারঃ শস্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরে ধানে ভরা মৌসুমেও নেই চালের বাজারের স্বস্তি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। ধান-চালের ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলছেন চাল ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। তবে মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বেশী তাই চালের দামও বেড়েছে।

শহরের পাইকারি চালের আড়ত বাহাদুর বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে নতুন চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। 

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিন আগেও মিনিকেট চালের মিল রেট ছিল ২ হাজার ৭৫০ টাকা, আর পাইকারি দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ গত এক সপ্তাহে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০ টাকা, আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকায়।সেদ্ধ কাঠারি ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। সুমন স্বর্ণ (মোটা) ২ হাজার ৫০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা।বোরো উনত্রিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা গুটিস্বর্ণা (মোটা) ১ হাজার ৯২০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০ টাকা। বোরো আটাশ চালের আগে পাইকারি মূল্য ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। চিনিগুঁড়া ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের এই বাজার দর আরও বাড়তে পারে বলে জানান চাল ব্যবসায়ীরা।

বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী মোঃ রহিম উদ্দীন বলেন, গত কয়েক দিনে চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। মিল মালিকেরা চাহিদার থেকে কম চাল কম দিচ্ছেন আমাদের। আমরা টাকা দিয়েও চাল সময় মত পাচ্ছিনা। ধানের এই ভরা মৌসুমে পাচ্ছি না ঠিকমত চাল আবার দামও বেশি।চালের এই বাজার দর আরও বাড়তে পারে ।

বাজারের আরেক চাল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন অনেক কারণে বাজারে চালের দাম বাড়ছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবার সবাই মিলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে এ সময় সারা বছরের চাল কিনে মজুত করেন। আর এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়েছেন।

শহরের বাহাদুর বাজারে চাল কিনতে আসা আটো চালক মোঃ রবিউল হাসান বলেন, চালের দাম মনে হয় এখন প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে গত সপ্তাহে আটাশ চাল কিনলাম ৪৭ টাকা কেজি দরে আজ সেটা ৫০ টাকা কেজি। বাজারে সব জিনিসের দামের সাথে চালের দামও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে তাতে আটো চালিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

মোঃ মিথুন নামে চাল কিনতে আসা অন্য জন বলেন, এখন নতুন ধান উঠেছে। এই সময়ে চালের দাম কম থাকার কথা, কিন্তু হয়েছে উল্টো। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে চালের বাজারে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে।

তবে মিল মালিকরা বলছেন, ভরা মৌসুমে ধানে বাড়ার কারণটি তাদের বোধগম্য নয়। ধানের দাম অস্বাভাবিক হারে কেন বাড়ছে তা তারা বুঝতে পারছেন না। দাম বেশী থাকায় মিল মালিকরা মিল চালাতে বাধ্য হয়ে বেশী দামে ধান কিনছে। পাশাপাশি চাল উৎপাদনের খরচ, স্টাফ বেতন, ব্যাংক সূদ সবকিছুই হিসাবে রাখতে হয়। সর্বোপরি মিল পর্যাায়ে যদি দাম বাড়ে ২টাকা তো খুচরা বাজারে তা ৫ টাকা বেড়ে যায়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, চালের নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত আছে। কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার বৈরী আচরণের কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত সব কাটা সম্ভব হয়নি ।বাজারে ধানের সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয়। বাজারে ধানের স্বাভাবিক সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং চালের মূল্যও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।