তারাগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিকার মিলিনি ভুক্তভোগীর

তারাগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিকার মিলিনি ভুক্তভোগীর

আশরাফুল ইসলাম প্রতিনিধি তারাগঞ্জ (রংপুর): আদালতে বিচারধীন হিন্দু পরিবারের জমি উপজেলা সাব রেজিস্টার কর্মকর্তাকে ম‍্যানেজ করে লিখে নেয় এক প্রভাবশালী দখলের পায়তারা করছে মর্ম অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনীতি হওয়ার ফলে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন এলাকার সুধী সমাজগণ। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করছেন এলাকার প্রতিষ্ঠিত সমাজসেবকগণ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রংপুর তারাগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একশ্রেণির দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। দলিল লেখক, স্ট্যাম্প ভেণ্ডার ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে, সাব-কবলা দলিলের পরিবর্তে হেবাদলিল এওয়াজ, অসিয়ত নামা, ঘোষণাপত্র, আমমোক্তার নামা দলিল রেজিষ্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তিনি তারাগঞ্জ সাব রেজিস্টার অফিসে যোগদানের পর থেকে এ দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি দলিল থেকে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা শেরেস্তার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মকর্তা তারাগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে যোগদানের পর থেকে বেশির ভাগ দলিল হেবাদলিল এওয়াজ, আমমোক্তার নামা ও দানপত্র ও ঘোষণাপত্র দলিল করার নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। গত এক মাসের রেজিস্ট্রি করা দলিল  যাচাই-বাছাই করা হলে এমন ঘটনা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন অনেকেই।

সরেজমিন গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দলিলের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করেন না। তার চাহিদা মতো টাকা না পেলে বিভিন্ন কাগজপত্রের অজুহাতে হয়রানি করা হয়। আবার টাকা পেলে সব বৈধ হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক জানান, শেরেস্তা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি তো দূরের কথা সীমাহীন হয়রানির স্বীকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। তাই বাধ্য হয়েই শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। তবে কাগজপত্রে ঝামেলা থাকলে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রত্যেক দলিল থেকে শেরেস্তার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও সিন্ডিকেটের ভয়ে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না। এতে করে হতাশায় ভুগছে এলাকাবাসীগণ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের বরাতি পাল পাড়া গ্রামের মৃত্যু দেবেন্দ্রনাথ পালের ছেলে হরিপদ পাল এ প্রতিবেদককে জানান, আমার কাকাত ভাইয়ের ছেলে অশোক পাল মিঠুর স্ত্রীর সাথে আমার জমি নিয়ে রংপুর যুগ্ন-জজ আদালত-১ যার নম্বর-১০৮/২০২১ মামলা চলমান। এ ঘটনা জানতে পেরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর জয়বাংলা গ্রামের মৃত্যু কাছুয়া শাহ্ ছেলে প্রভাবশালী আজগারুল শাহ্ উপজেলা সাব রেজিস্টার কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে আদালতে মামলারত জমি আইন অমান্য করে রেজিস্ট্রি করে। এতে তিন চরম ভাবে আইন অমান্য করছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচাররে দাবি করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ফজলে রাব্বি এ প্রতিনিধিকে বলেন, অফিসে কোনো সিন্ডিকেট নেই। দলিল লেখকের মাধ্যমে আমার নিকট দলিল আসে। শেরেস্তা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসে কোনো শেরেস্তা আদায় করা হয় না। দলিল লেখকরা চুক্তি করে দলিল রেজিস্ট্রি সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অফিসের বিবিধ খরচ বাবদ সামান্য টাকা রাখা হয় বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয় বলে দাবি করেন তিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *