তারাগঞ্জে মাসোহারা দিয়ে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহনগুলো।

আশরাফুল ইসলাম, তারাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের মতো ব্যস্ততম সড়কে চলছে তিন চাকার গাড়ি, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা নিয়ে দাপিয়ে বেরাচ্ছে চালকরা। মনে হচ্ছে মহাসড়কটা রিকশা অটোরিকশার দখলে রয়েছে। বেপরোয়া ভাবে অবৈধ গাড়িগুলো চলাচল করায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।
অভিযোগ উঠেছে মোটর শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা সহ সড়কের মোড়ে মোড়ে স্ট্যান্ড বানিয়ে কিছু লোককে দায়িত্ব দিয়ে এসব অবৈধ যানবাহন চালকদের কাছে মাসিক মাসোহারা আদায় করছে। প্রতিদিন অথবা মাসিক মাসোহারা দিয়ে স্থানীয় সড়ক ও মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এইসব অবৈধ যানবাহনগুলো।


এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সড়ক-মহাসড়কে রিকশা বা অটোরিকশার চালকরা ফি স্টাইলে দাপিয়ে বেরাচ্ছে এইসব অবৈধ যানবাহন নিয়ে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে যেসকল সড়ক উপজেলা সদর বাজারে সংযোগ সব-সড়ক এখন অটো রিকশার দখলে। চালকের আসনে ১২-১৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধদেরও দেখা যায়। ফলে তাদের মধ্যে নেই সচেতনতা বা দায়িত্ববোধ। মহাসড়কের স্ট্যান্ড বা কোনো সংযোগ সড়কে ১০ মিনিট দাঁড়ালেই বোঝা যাবে কত সংখ্যক অটো রিকশা সড়ক মহাসড়কে চলছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটো রিক্সার দাম কম ও ভাড়া বেশী হওয়ায় এটি নতুন ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে কেউ কেউ। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে এর সংখ্যা। এতে করে সড়ক দর্ঘটনার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে দেশের মূল্যবান বিদ্যুৎ সম্পদ। মহাসড়কের তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের উপরেই বীরদর্পে লাইন ধরে পার্কিংয়ে অবস্থান করছে অটো রিকশাগুলো। এছাড়া তারাগঞ্জের চামড়ার আড়তের কাছে, তারাগঞ্জ বাজারের অগ্রনী ব্যাংকের মোড় ধুলিয়ার মোড়, পুরাতন চৌপথী, ইকরচালী বামনদীঘি, চিকলী বাসস্ট্যান্ড খিয়ারজুম্মা বাসস্ট্যান্ড মহাসড়কে এসব গাড়িগুলো বেশি চলাচল করছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশও মানছে না তারাগঞ্জ বালাবাড়ী হাইওয়ে থানার পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ তারাগঞ্জ একটি হাইওয়ে থানা থাকলেও তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা সহ তাদের কিছু কিছু সদস্যদের সাথে সংশ্লিষ্ট চাঁদা আদায়কারীদের সাথে গোপন আঁতাতের কারণে এসবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা না করে বরং সিএনজি চলায় উৎসাহিত করছে। ফলে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে অবৈধ এ যানবাহনের চলাচল অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব তদারকির জন্য নিয়মিত অভিযান চালনোর কথা থাকলেও হাইওয়ে পুলিশ কখনই তা করছেনা। অপরদিকে এই গাড়ি চালিয়ে অনেক গরিব মানুষ জীবন ধারণ করেন। মহাসড়কে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট গাড়ির মতো দ্রুতগতির যান যেমন চলে, একই সঙ্গে চলে ধীরগতির অটোরিকশা, ইজিবাইক, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি, ব্যাটারিচালিত গাড়ি ও রিকশা। পৃথিবীর কোনো দেশে মহাসড়কে এমন বারোয়ারি যান চালাচল করে না। ধীরগতির যানবাহনের কারণে দ্রæগতির যান দুর্ঘটনায় কবলে পরছে। ধীরগতির যানগুলো দুর্বল হওয়ায় এর যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নেই। সামান্য টোকা লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় বেশি সংখ্যার প্রাণহানি ঘটে। ফলে এলাকাবাসি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরেজমিন তদন্ত করে মহাসড়ক থেকে ওই অবৈধ যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি নুরন্নবী প্রধান মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ যানবাহনে চাঁদা নেয়ার বিষয়েটি আমার জানা নেই। মোটর শ্রমিক সদস্যদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো। আপনারা পারলে চাঁদা উত্তোলনকারীদের ধরে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহাম্মেদ জানান, অবৈধ যানবাহন থেকে চাঁদা তোলর বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।