তারাগঞ্জে মডেল মসজিদ নির্মাণ ঠিকাদারের পরিচয় এমপি’র বড় ভাই নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ


আশরাফুল ইসলাম, প্রতিনিধি তারাগঞ্জ (রংপুর)ঃ
রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মডেল মসজিদ নির্মাণে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। মসজিদ নির্মাণ পিলারে ২০ মিলি রডের পরিবর্তে ১৬ মিলির রড ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নি¤œমানের বালু, কমগ্রেডের সিমেন্ট, পরিমাণে কম ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরনো ইট, ২০ মিলির পরিবর্তে ১৬ মিলির রড, মসজিদের বেইজে ঢালাইয়ে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ঢালাইয়ের কাজে স্টিলের শাটারিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও সেখানে কাঠের শাটারিং ব্যবহার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালম আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের জেঠাত বড় ভাই লিংকন চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। এমপি’র প্রভাব খাটিয়ে এই নি¤œমানের কাজ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।
রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের প্রত্যেক উপজেলায় চারতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশেষ উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় তিনতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণে ১২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় রংপুর ২আসনের এমপি আবুল কালাম আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক এর জেঠাত বড় ভাই লিংকন চৌধুরী। ২০১৯ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ এতেও চরম অনিয়ম করেছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সকালে নির্মাণাধীন মসজিদটি ঘুরে দেখা গেছে, নির্মাণ কাজ চলমান। এসময় নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে কাজের মান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেউ বলার আগ্রহ দেখাননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, মসজিদের কাজের মান খুবই খারাপ হচ্ছে। বেইস ঢালাইয়ে পাথরের খোয়া ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সেখানে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। নি¤œমানের বালু ও কমগ্রেডের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় পুরনো ইট, পুরনো প্লেইন রড ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ২.৫ এফএমর বালু ব্যবহারের কথা সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নি¤œমানের ধুলোর মতো বালু। সিমেন্টের ব্যবহার পরিমাণমতো দেওয়া হচ্ছে না। ইট ও পাথরের খোয়া ভালোভাবে পরিষ্কার না করে ময়লাযুক্ত অবস্থায়ই ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
ওই শ্রমিক আরো বলেন, আমরা কামলা দেই। ঠিকাদার যেভাবে কাজ করতে বলেন সেভাবেই আমাদের করতে হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঠিকাদার লিংকন চৌধুরী নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছি। যদি কেউ বলে থাকেন তাহলে মিথ্যা বলেছেন।
এ প্রসঙ্গে রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম আমরা মেনে নেব না।
এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অনিয়মকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠনটির বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *