তারাগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে অনিয়ম

আশরাফুল ইসলাম, প্রতিনিধি তারাগঞ্জ (রংপুর)ঃ
রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল জলিল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই দপ্তরের কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতা গণদেরসহ ওই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার কাছে দাপট খাটান তার এমন আচরন সংক্রান্তসহ বিভিন্ন প্রকার দূর্নীতি অনিয়মের বিষয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল প্রচারিত প্রাচিনতম জাতীয় দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় গত ৯ আগষ্ট খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু আবারও ওই কর্মকতা পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তার নেক্কার জনক পুরো ঘটনাটি একাধিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয়। পরে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেখার নির্দ্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনাটি এলাকা বাসি ও সুধি-সমাজ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে জানাজানি হলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুরা ঘটনা প্রাচিনতম বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় গত ৯ আগষ্ট প্রকাশিত খবরে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম দূর্নীতির ঘটনায় দিন- দিন ঝিমিয়ে পড়ছে কার্যক্রম। জনবল সংকটে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে জননিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গুরত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জোড়াতালি দিয়ে স্থায়ী পদ্ধতি ও ইমপ্লানন পদ্ধতির সেবা প্রদানসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের দম্পতিরা পদ্ধতি গ্রহণের পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হলে ভুক্তভোগীরা সঠিক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হঠাৎ জ্বর ব্যথা সহ নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সেবা না পেয়ে বিমুখ হয়ে ফিরছে ভুক্তভোগীগণ।
বছরের বিভিন্ন সময় সরকারের দেয়া সেবামূলক কর্মসূচীগুলো পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল দায়সারাভাবে পালন করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন ক্যাডার কিন্তু তিনি নিজেকে ক্যাডার পরিচয় দিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দাবি করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দাপট খাটান বলে অভিযোগ করছে ভুক্তভোগীরা। এঘটনাটি এলাকা বাসি ও সুধি-সমাজ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে জানাজানি হলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে, ইকরচালী ও হাড়ীয়ারকুঠি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদ ও সয়ার এবং আলমপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট আয়া পিয়ন পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার সুযোগে চিকিৎসক না হয়েও মেডিক্যাল অফিসারের শূন্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন আয়া পিয়ন ও ফার্মাসিস্টরা। ফলে সরকারের বিনামূল্যের এ সেবা থেকেও বঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
এঘটনার সংক্রান্তে এ উপজেলার কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা এ প্রতিবেদকে জানান, বর্তমান পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজেই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে এতে তিনি চরম অনিয়ম করছেন বলে অনেকে মনে করছেন। ফলে এ এলাকার সুধি-সমাজের লোকজন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে সরেজমিন তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, আমি কোন অনিয়ম করি না। যা করি নিয়মের মধ্যে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের রংপুরের উপ-পরিচালক ডাঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি শূন্যপদ পুরণে জন্য মন্ত্রণালয়ে বারবার চিঠি দেয়া হয়েছে। আব্দুল জলিল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সে যদি নিজেকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *