তারাগঞ্জে গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাস রোগে দিশেহারা খামারিরা সার্বিক তত্ত¡াবধানে প্রাণিসম্পদ বিভাগ এক হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসায় কয়েকটি গরু মারা গেছে

আশরাফুল ইসলাম প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর):

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাস রোগে আক্রান্তর সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যে ভাইরাসজনিত এ রোগটি তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগে মুলত গরুর চামড়ার ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় খামারিরা। বিশেষকরে যারা গরু মোটাতাজাকরণ করে অল্প সময়ের মধ্যে বিক্রি করেন। এতে ক্ষতির আশঙ্কাও খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা। তবে তারাগঞ্জ উপজেলায় এ রোগটি যখন প্রথম দেখা দেয় ঠিক তখনি তারাগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কঠোর তদারকিতে রোগটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ ও খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও খামারিগণ জানান, এ রোগটি সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুতে মশা-মাছির বিস্তারের সময় ব্যাপক আকার ধারণ করে। মশা-মাছি ও খাবারের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে এ রোগ ছড়ায়। টিকা দিয়ে এ রোগ আক্রান্ত থেকে গরুকে রক্ষা করা যায়। আক্রান্ত হওয়ার পর আক্রান্ত গরু আলাদা ও মশারির ভেতর রাখা জরুরি। এ রোগের ল²ণ হচ্ছে আক্রান্ত গরুর গা হঠাৎ গরম হয়ে যায়। শরীরজুড়ে ছোট ছোট ফুলে ওঠে অনেকটা আঁচিলের মতো। পা, ঘাড়, মাথায় এসব বেশি ওঠে। চামড়া উঠে ক্ষতে পরিণত হয়। এ রোগে আক্রান্ত গরু খাওয়া ছেড়ে দেয়। সব ধরনের গরুই এ রোগে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত গবাদিপশুর চোখ দিয়ে পানি ঝরে চোখ অন্ধ হয়েও যেতে পারে। এ রোগে মারা যাওয়ার হার শতকরা ১-৩ শতাংশ। ষাঁড় গরুর ক্ষেত্রে ইনফাটিলিটি কমে যায় এবং গর্ভবতী প্রাণীতে গর্ভপাত ঘটে। খুরা রোগের চেয়েও এটি বেশি ভয়ঙ্কর। আক্রান্ত গরু নিয়ে প্রতি দিনই উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে কৃষকেরা ভিড় করছেন।
উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামের মৃত্যু হানিফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম বলেন, আমার ১টা গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। মুচা ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছিলাম আমার মনে হয় গরুটির সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় গরুটি মারা গেছে। যার অনুমান মূল্য ৬০০০হাজার টাকা। আমি যদি উপজেলা প্রাণিসম্পদ স্যারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতাম তাহলে হয়তো আমার গরুটা প্রানে বাচতো।
একেই এলাকার মৃত্যু ইনুস মেম্বারের ছেলে বাদশা মিয়া বলেন, আমি ওই রকম এক পল্লি চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে আমার ১টা গরু মারা গেছে। এছাড়াও আমার আরও ২টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। আমি ওই ২টি গরু উপজেলা প্রাণি সম্পদ স্যারের চিকিৎসা নিয়েছি বর্তমানে গরু ২টি সুস্থ্য আছে।
উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের উত্তর নাড়ানজন গ্রামের ভ্যান চালক মনসুর আলী জানান, আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি এখানকার প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা অনেক ভদ্র। আমার গরু বর্তমান ভাল আছে। একই এলাকার জমসের আলী জানান, আমার পাঁচটি গরুর মধ্যে ২টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে, চিকিৎসা করাতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গরু নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায়, কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি বর্তমানে তার গরুও সুস্থ্য আছে। এছাড়াও ওই এলাকার কুদ্দুস পাগলার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম জানান, মোর ১টা গরুক ভাইরাস ধরছিল মুই মুচা ডাক্তারক দেখাচুং মোর গরু মারা গেছে। মোর বাড়ির আশপাশে যে গরু গুলার ওই রোগ হইছে তারা অন্য ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছে তাদের গরু গুলা ভাল আছে।
উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের রবিন্দ্র দৈনিক সংবাদকে জানান, আমার ১টি গরু দেড় মাসে আগে এ রোগে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ হলেও পায়ে ও বুকে ক্ষত হয়েছে খাবার কম খায় এবং ক্ষত স্থান দিয়ে রক্ত ও পুঁজ বের হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার একেএম ফরহাদ নোমান শিমুল বলেন, এ রোগে আক্রান্ত প্রাণি প্রতি দিন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজে সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এ ছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে,। বর্তমানে এ রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *