ডোমারে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুর‌্যাল শিল্পী তোতন সাহা।

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড ছোটরাউতা সাহাপাড়া এলাকার প্রয়াত বাবু শুনিল কুমার সাহার একমাত্র ছেলে রঞ্জন কুমার সাহা তোতন (৪৪) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তার মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (১৬ মে) রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে তাঁর নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৪৪) বছর। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী এবং ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য যে, তোতন সাহা কর্মজীবনে নানা কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২টি শৈল্পিক কারুকাজে অবদান রেখেছেন। এর মধ্যে ৭ নং বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও ডোমার উপজেলা পরিষদ চত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূরাল তৈরির কাজ ২টি করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়াও পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ড চিকনমাটি ধনীপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ববিনের ৭১ সালে মাকে লেখা একটি চিঠি প্রথম আলো পত্রিকা এবং প্রথমা প্রকাশনীর আয়োজনে ৭১ এর চিঠি নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে সেই বইয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ববিনের মাকে লেখা চিঠিটি স্থান পেয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই চিঠি খানা মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা পাঠ্য বইয়ে এবং উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ শ্রেণির বাংলা বইয়ে স্থান পেয়েছিল।

এর পাশাপাশি ছোট খাট বিয়ে স্টেজ, গেট সহ নানা রকম শৈল্পিক কারুকাজে সুনামের সহিত সম্পন্ন করে তার কর্মময় জীবনে এলাকায় অনেক অবদান রেখে গেছেন। বিশেষ করে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে “জীবনের কথা” নামক এলাকার সাধারণ মানুষ, ঐতিহ্যবাহী চিত্র ধারণসহ উন্নয়ন মূলক ভিডিও ধারণ করে বেশ সাড়াজাগিয়েছে। তার এই অকাল মৃত্যু এলাকার কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেনা। তার এই অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বন্ধু বান্ধবসহ এলাকা জুড়ে শোকের মাতম বইছে।