ডোমারে আগুনে পুড়ে যাওয়া শিশু মোকছেদুল বাচঁতে চায়।

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে বিদ্যুৎতের আগুনে পুড়ে গেছে মোকছেদুল বাঁচতে চায়। শরীরের ৬০ ভাগ অংশ পুড়ে গেছে তার। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে শিশু মোকছেদুলের পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কেতকীবাড়ী ৩নং ওয়ার্ডের শান্তি নগর গ্রামে। জানাযায় গত ৪ জানুয়ারী বিকালে কেতকীবাড়ী দালালগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য বিদ্যুৎতের লাইনের সংযোগ দিতে যায় মোকছেদুল ইসলাম (১১) নামে ওই শিশু। বোর্ড হাতে দিয়ে তার সহপাঠী মেইল লাইনে সংযোগ দিতেই এক পর্যায়ে মেইন লাইনের তারে সংযোগ দেওয়ার সাথে সাথে লাইট লাগানো বোর্ডের সমস্ত লাইট বাষ্ট হয়ে আগুন মোকছেদুলের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সহপাঠীদের আত্মচিৎকার এলাকার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। এরই মধ্যে তার বুক, পিঠ, মাথা এবং হাত পা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়ে যায়। মোকছেদুলের পিতা আজিজুল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

কর্তব্যরত চিকিৎসক তার উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করেন। রংপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মোকছেদুলের শরীর রক্তশুন্য হওয়ার কারণে তাকে অনেক রক্ত দেয়া হয়। তিনি আরও জানায়, এ যাবত মোকছেদুলের চিকিৎসার পিছনে সর্বোমোট ৪লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবুও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেনি। চিকিৎসকরা তার বাবাকে জানিয়েছেন মোকছেদুল পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে হলে তার চিকিৎসার জন্য আরও ৬ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। গরিব পিতা অর্থের যোগান দিতে না পারায় ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছে এবং ছেলের চিকিৎসার খরচ যোগাড়ের জন্য সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দিনমুজুর পিতা সারাদিন কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে কোন রকম সংসার চালায়।

অভাবের সংসারে ৬ ছেলের মধ্যে মোকছেদুল ৪ নম্বর, সে শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। নিজস্ব জমিজমা বলতে শুধুমাত্র বাড়ির ভিটার ৪ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছুই নাই। ছেলের এই অবস্থায় আতœীয় স্বজন পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন লোকের কাছে ধারদেনা ও সাহায্য নিয়ে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য স্বহৃদয়বান ও বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের চান তিনি। নিজস্ব বিকাশ মোবাইল নম্বর ০১৭১৪-৭৯৩১৩১ তে সন্তানের সুচিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করেন শিশুটির পিতা আজিজুল ইসলাম।