ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় এক পরিবারের জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে হামলা, অধ্যক্ষ মুজাহারুল ইসলাম সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আালতে মামলা দায়ের।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর গ্রামের অসহায় সাইফুল ইসলামের জমিতে জোরপূর্বক ঘর তোলার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অধ্যক্ষ মুজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল বাধাদানকারী পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে। এতে ওই পরিবারের ৩ নারী আহত হয়।এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে রুহিয়া ছালেহীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মুজাহারুল ইসলাম, তার ভাই মহিউল ইসলাম সহ ৯ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আদালত বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রুহিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,ঠাকুরগাও সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর গ্রামের  ৬২৯ সিএস খতিয়ানভুক্ত ১৬৮৩ দাগের ২৩ শতক জমি সাইফুল ইসলামের দাদা গফুর উদ্দীন সরকারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি ।তার মৃত্যুর পর সাইফুলের পিতা ইয়াকুব আলী এবং তার মৃত্যুর পর তার ৫ ছেলে বর্নিত জমিতে বাড়িঘর নির্মান করে বসবাস করে ভোগ দখলীকার রয়েছেন।

এদিকে বর্নিত জমির কতক অংশে সাইদুল ইসলাম নামে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জোরপূর্বক পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ফৌ.কা. আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারা মতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমপি-১৮৫/২২  নম্বর মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে রুহিয়া থানা পুলিশ আসামী পক্ষের প্রতি নোটিশ জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়।

কিন্তু আসামী পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা  অমান্য করে গত ১১ মে বুধবার   বিকেলে বর্নিত জমিতে বেড়া স্থাপনের চেষ্টা চালায়।রুহিয়া ছালেহীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মুজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রভাবশালী মহলটি সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখল করতে গেলে ৯৯৯ নাম্বারের ফোন পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে জমি দখলে বাধা দেয় এবং শান্ত থাকার নির্দেশনা জারি করে।কিন্তু পুলিশ চলে যাবার ১৫-২০ মিনিটের মাথায় প্রভাবশালী মহলটি লাঠি সোটা দা বল্লম ইত্যাদি বেআইনী অস্ত্রসস্ত্রে সজিত হয়ে সাইফুল ইসলামের পরিবারের উপর হামলা চালায় এবং মারধোর করে।এ সময় আরজিনা বেগম, জাহানারা বেগম এবং শাহিনা বেগম নামে ৩ গৃহবধূ আহত হয়।তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে ১৭ মে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে অধ্যক্ষ মুজাহারুল ইসলাম,তার ছোট ভাই মহিউল ইসলাম সহ ৯জনকে আসামী করে চীফ জুডিশিয়াল   ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দ:বি: ১৪৩/ ৪৪৭/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৫৪/ ৩৭৯/ ৪২৭/ ৫০৬(২)/ ১১৪/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে।আদালত তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রুহিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করে।
বাদী সাইফুল ইসলাম জানান, বর্নিত জমির বিষয়ে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এটি বাটোয়ারা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।বিবাদী পক্ষ ওই মামলায় বছরের পর বছর ধরে সময়ের আবেদন করে মামলাটি বিলম্বিত করছে।অপরদিকে দলবল নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।আমরা গরীব মানুষ।তাই বলে কি এদেশে সুষ্ঠু বিচার পাব না?
রুহিয়া থানার ওসি চিত্তরন্জনর রায় জানান, সাইফুল ইসলামের দায়েরকৃত মামলার আবেদন আদালতের মাধ্যমে পেয়েছি। একজন অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভূমিদস্যু মুজাহারুল ইসলাম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গোরস্থান ও ঈদগাঁ-মুসলমান সাধারণের জন্য ব্যবহার্য শ্রেনীতে রেকর্ডীয় জমি গোপনে কেনার অভিযোগ রয়েছে।