জলঢাকায় পোষ্ট অফিসের সরকারী জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সম্ভাবনা

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

নীলফামারী জলঢাকায় পোষ্ট অফিসের সরকারী জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। যখন তখন ক্ষোভনীয় এ ক্রোধ সংঘর্ষে রুপ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খলা শুরু হতে পারে এমনটাই দাবী স্থানীয়দের। সংঘাতময় এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আক্রশন করেছেন ব্যবসায়ী মহল। উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজারে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অভিযোগ সূত্রে অনুসন্ধানে জানা যায়, নেকবক্ত বাজারের মেইন রোড সংলগ্ন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত পোষ্ট অফিস ।যার পোষ্ট কোর্ড নং ৫৩৩০ নেকবক্ত শাখা। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সুধাংশু কুমার রায় প্রেরিত গত ৩০শে জুন ২২ইং এর একটি খাজনা পরিপত্রনুযায়ী মৌজা ও জে.এল.নং নেকবক্ত – ৭০, ২নং রেজিষ্টার অনুযায়ী হোল্ডিং নম্বার – ৩, খতিয়ান নং ৩ এবং ৫৩৬৬ দাগ নাম্বারে ৩২ শতক জমি পোষ্টাল ডিপার্টমেন্ট মালিকানায় নেকবক্ত পোষ্ট অফিস। উক্ত ৩২ শতক জমির মধ্যে ৩ শতক জমিতে পোষ্ট অফিসটির ভবন নির্মানাধীন রয়েছে এবং বাকী ২৮ শতক জমির মধ্যে ১০/১২ শতক জমিতে একটি পুকুর রয়েছে ও ১৭ শতক জমি নেকবক্ত বাজারের মেইন রোড সংলগ্ন। দীর্ঘদিন জায়গাটি পরিত্যক্ত হিসাবে পরে থাকলে প্রায় ২০/২২বছর পূর্বে রাস্তা সংলগ্ন পোষ্ট অফিসের ওই জায়গাটিতে মাটি ভরাট করে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে জয়া ট্রেডার্স স্যানেটিশন নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব নুরুল হকের পুত্র আজহারুল ইসলাম। তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি ওই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে এস.এ খতিয়ান অনুযায়ী নেকবক্ত পোষ্ট অফিসের ওই জমি দান করেন পার্সবতী ডিমলা উপজেলার ডিপপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রী হীরম্ব বর্মনের স্ত্রী মিনা রানী রায়। অভিযোগ উঠেছে পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তিনি স্যানিটেশন মালিকের নিকট সেকেউরিটি বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন এবং পোষ্ট অফিসের ওই জায়গা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবী করে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন। এ সময় স্যানিটেশন মালিক আজহারুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরারব লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আজহারুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে শুধু আজহারুল ইসলামেই নয় বাজার সংলগ্ন আব্দুল গনীর পুত্র দরিদ্র জোনাব আলীর নিকট ১০ হাজার টাকা সেকেউরিটি নিয়ে ক্ষুদ্র একটি পুরাতন কাপড়ের দোকান বসিয়ে দেন পোষ্ট কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরী। এখন সেই পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীর নিকট প্রতিমাস অনুযায়ী ভাড়া দাবী করছেন। খাশ জায়গা বলে ভাড়া প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তার দোকান ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।  এছাড়া নিজের ক্ষমতা বলয়ে পোষ্ট কর্তা ছালেক চৌধুরী তার ছেলে মাহামুদুল হোসাঈন সিহাবকে দিয়ে নিজেই একটি বড় মুদি দোকান নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং অভিযোগ উঠেছে ওই মুদি দোকানেই পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের ব্যবহৃত কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্ক্যানার ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসা জমজমাট করছেন। এছাড়াও মাংসের দোকান, কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল মেম্বারসহ শাক ব্যবসায়ী একরামুল, টন্ডু, মিজানুর ও পান ব্যবসায়ী আলতাব হোসেনের নিকট প্রতি মাসে মাসিক ভাড়া তুলেন। যার পরিমান প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকার উপরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী কয়েকজন জানান, পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরী অবলীলায় বলেন যে, তার পৈতৃক সম্পত্তি পোষ্ট অফিসের জাগয়া।  এ জন্য তিনি মাসে মাসে ভাড়া তুলেন সব দোকান থেকে। পোষ্টকর্তা ছালেক চৌধুরী’র এমন কর্মকান্ডে ওই জায়গায় বর্তমানে তিনটি গ্রুপের উত্থান সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পোষ্ট কর্মকর্তা পৈত্রিক সূত্রে দাবীদার ও অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের তৎপরতা এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সুবিধা বঞ্চিত একটি পক্ষ। এই তিন পক্ষের মধ্যে বর্তমানে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন ওই পোষ্ট অফিসের সরকারী জমি নিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজমান। এমন পরিস্থিতিতে অত্র বাজারের ব্যবসায়ী মহল এবং এলাকার শান্তিপ্রিয় বাসিন্দা স্থানীয় প্রশাসন সহ জেলা পোষ্ট অফিসের সার্বিক সহায়তা কামনা করেছেন। যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়ে পোষ্ট অফিসের সরকারী জায়গা নিয়ন্ত্রণে রাখে পোষ্ট অফিস। এ বিষয়ে নেকবক্ত পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তা অভিযুক্ত ছালেক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমার পৈতৃক সূত্রে দানকৃত জায়গা এই পোষ্ট অফিস। এখানে আমি কর্মকর্তা হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছি। সরকারী জায়গায় দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছেন এমন প্রশ্নে ছালেক চৌধুরী বলেন, ভাড়া সরকারের খ্যাতে জমা করেছি। দোকানঘর ভাংচুর করেছি আমার বিরুদ্ধে এ সব মিথ্যা অভিযোগ। এ বিষয়ে জেলা পোষ্ট কর্মকর্তা রমজান আলী গণমাধ্যমকে বলেন, পোষ্ট অফিসের সরকারী জায়গা এটি। ছালেক চৌধুরী পৈতৃক সম্পত্তি হবে কেন? দাতা সদস্য হতে পারেন তাই বলে জমির দাবী তিনি করতে পারেন না। বর্তমানে জমি নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এমন প্রশ্নে জেলা পোষ্টকর্তা বলেন, যেহেতু পোষ্ট অফিসের ওই সরকারী জমি নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পোষ্ট অফিসের সরকারী জায়গা খালি করে পোষ্ট অফিসের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। ওখানে কেউ কোনরুপ ব্যবসা করতে পারবে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, শুনেছি এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ এসেছে। সময় স্বল্পতার জন্য দেখার সুযোগ হয়নি। বিষয়টি যেহেতু পোষ্ট অফিসের সেহেতু জেলা পোষ্টাল ডিপার্টমেন্ট যদি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সেখানে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *