গোখাদ্যর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়-ঘাস চাষে ব্যস্ত কৃষক।

মোঃ শাহাদত হোসেন , সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গোখাদ্যর দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে খামারিরা। গোখাদ্য ছোলা, ভুট্টা, ভূষি ও ফিড ও খড়ের দাম বেশি এ সমস্ত খাবারের পরিমান কমিয়ে দিয়ে চাষ করা ঘাসের পরিমান বাড়িয়ে দিয়ে কৃষক ও খামারিরা গবাদিপশু লালন পালন করছেন। এ জন্য ফসল কম হয় এমন আবাদি জমি, বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জায়গা ও সড়কের দুই ধারে ঘাস চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন অধিকাংশ কৃষক। অনেকেই নিজের খামারের চাহিদা পূরণ করেও বাজারে প্রতি আটি ঘাস ২০ টাকা দরে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।অনেকেই গবাদিপশুর জন্য বাড়তি খাবার হিসাবে কাঁচা ঘাস কিনে খাওয়াচ্ছে। এতে দোহাইল গরুর দুধের পরিমাণ বেশি পাচ্ছে। 


জানা যায়, অনেক কৃষক ফসল ভালো হয় না এমন জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করে লাভবান হচ্ছে। স্থানীয় খামারিরা বাজারের গোখাদ্যর উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়ে ঘাসের ওপর ঝুঁকে পড়ছে। ধানের জমিতে ধান বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে নিয়মিত সেচ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষক।ধান ও খড় দুটো বেশি উৎপাদন হলে কৃষক অধিক লাভবান হবে।


উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামের মৃত ময়েন মন্ডলের ছেলে টিপু বিশ্বাস জানান, আমরা দরিদ্র কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি ৩টি গাভীন ও ৩টি ষাড় গরু পালন করেছি। গাভীনের দুধ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করি এবং কোরবানির ঈদে সাড়ে তিন লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ নিয়ে ৩ টি ষাড় গরু পালন করছি। কিন্তু দ্রব্য মুল্যের সাথে তাল মিলিয়ে গোখাদ্য ও খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালন করতে হাপিয়ে উঠেছি। বাধ্য হয়ে এ বছর ১ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করছি। এতে কিটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না বলে লাভের পরিমাণ বেশি হয়। নিজের পালিত গরুর চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারব।

উল্লাপাড়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ৪ টি গাভীন ও ৩ টি ষাড় গরু পালন করেছি। গোখাদ্য ও খড়ের দাম বৃদ্ধির কারনে ঘাষ চাষ করেছে।এতে বিগত বছরের মতো গোখাদ্য ও খড়ের উপর নির্ভর করতে হয়না। বড় সুবিধা হলো ধান চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে যে ভাবে সহযোগিতা করেছেন ঘাস চাষে একই ভাবে উৎসাহিত করেন।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুর্বণা ইয়াছমিন সুমি বলেন, গোখাদ্যর দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের পতিত যায়গা, অনাবাদি জমি ও বাড়ির আঙিনায় ও সড়কের ধারে উন্নত জাতের ঘাস চাষের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। এতে কৃষক ঘাস চাষে উৎসাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোর্শেদ উদ্দিন জানান উপজেলায় খামারীরা দুধ দহন ও বিক্রির জন্য ষাড় গরু পালন করে।যে পরিমান গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে খামারিদের লোকশান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল্প হিসাবে খামারিদের অনাবাদি জমি, পতিত জায়গায় উন্নত জাতের ঘাস চাষ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। কাঁচা ঘাসে দ্রুত গরুর বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। অল্প দিনে গরু সুঠাম হবে। উন্নত জাতের ঘাস চাষ করে সফলতা পেলে গোখাদ্য নির্ভরশীলতা কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।